চিক চিক বালুতে ফলছে সোনা

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:০৬
তিস্তার চিক চিক বালুচরে কুমড়া চাষ হচ্ছে। লিক লিক করে বেড়ে উঠছে কুমড়া গাছের ডগাগুলো। ফুলে ফলে ছেয়ে আছে কুমড়া ক্ষেত। গাছে গাছে কুমড়ার ফুল আর কুমড়ার সমারহ। চরাঞ্চলের গরিব পরিবারগুলোর কুমড়ার ডগার মত বাড়ছে আগামীর স্বপ্ন। উপজেলার সাত ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে কোনো জল থাকে না। যেদিকে তাকানো যায় শুধু বালি আর বালি। এই ধু ধু বালুচরে স্বপ্ন গেড়ে গেড়ে কৃষকরা তুলে আনছেন সোনার ফসল। এক সময়ে তিস্তার চরে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কাশিয়ার জায়গা দখল করে নিয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফসল। তিস্তার বালুচরে এখন ধান, পাট, গম, সরিষা, আলু, কুমড়া, তরমুজ, বাদামসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফসল। যেন চিকচিক বালুতে ফলছে সোনা। উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের পশ্চিম মহিপুর গ্রামের কৃষক ফাইজুর রহমান, রাজ্জাক মিয়া ও কছিম উদ্দিন। তিনজনেই তিস্তা নদীর মহিপুরচরে এ বছর এক একর জায়গাতে কুমড়া চাষ করেছেন নিজেদের উদ্যোগে। এর আগেও তারা কুমড়া চাষ করেছিলেন। লাভও পেয়েছিলেন ভাল। তাই এ বছর জোরে সোরে কুমড়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন তারা। সরেজমিনে মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কোলকোন্দ ইউনিয়নের কুড়িবিশ্বা, সাউদপাড়া, আলেকিশামত, মীরপাড়া, মাস্টারপাড়া, গঙ্গাচড়া সদরের ধামুর, গান্নারপাড়, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর, বুড়িডাঙ্গী ও গজঘণ্টা ইউনিয়নের ছালাপাক, কালিরচর এবং মহিষাশুর চরের ব্যাপক এলাকায় মিষ্টি কুমড়া চাষ হয়েছে। ধু ধু বালুচরে লকলক করে বেড়ে উঠছে মিষ্টি কুমড়ার ডগা। ফুল ধরেছে কোনো কোনো গাছে। দেখলে মনে হয় যেন সাদা বালুর উপরে সবুজ গালিচা বিছানো। ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এখন এখানকার কৃষকরা। তারা আশা করছেন এ বছরও কুমড়ার ফলন ভাল হবে। কৃষক ফাইজুর রহমান বলেন, তিনি গত চার বছর ধরে চরে কুমড়া আবাদ করছেন। গত বছর ৩৩৫ টি গর্তে কুমড়া লাগিয়েছিলেন। কুমড়ার দামও পেয়েছিলেন ভাল। এ বছর তিনি এক একর জমিতে ১ হাজার গর্তে ২ হাজার কুমড়া গাছ লাগিয়েছেন। আশা করছেন এ বছর তার ৪ হাজার কুমড়া উত্পাদন হবে, যা থেকে আয় আসবে লক্ষাধিক টাকা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ডা. সাইখুল আরেফিন জানান, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার চরে এখন নানা ধরনের ফসল আবাদ হচ্ছে। কৃষকরা আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। যার কারণে চরাঞ্চলের কোনো জমি এখন আর পতিত থাকছে না। আমরা কৃষকদের ফসল আবাদে সব রকমের পরামর্শ দিচ্ছি। লেখক:সাংবাদিক, গঙ্গচরা, রংপুর