পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তোমাদেরকে কিছুটা পরিকল্পনা মাফিক অগ্রসর হতে হবে। বিশেষ করে প্রথমে রিভিশন রুটিন তৈরী করে সে অনুযায়ী অপেক্ষাকৃত দূর্বল চ্যাপ্টার গুলোর ঝালাই ও সবগুলো আগাগোড়া পড়তে হবে। অনেককেই দেখা যায়, সারা বছর কঠোর অধ্যবসায় ও নিবিড় প্রস্তুতি সত্ত্বেও পরীক্ষার আগ মুহূর্তের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অপরিকল্পিতভাবে নতুন পুরাতন সব চ্যাপ্টার তরিগড়ি শেষ করতে যেয়ে শেষ পর্যন্ত দেখা যায় কোনটিই ভালোভাবে শেষ হয়নি।
অনেককেই আবার দেখা যায়, পরীক্ষা-কেন্দ্রে গিয়ে মানসিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রশ্নের উত্তর জানা সত্ত্বেও উত্তরপত্রে তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারে না। বিশেষ করে স্কুল বা কলেজের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাগুলোর উত্তরপত্রের সঙ্গে বোর্ডের উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার সাদৃশ্য না থাকায় প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ বা ভরাট করতে ভুল করে। এছাড়াও উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে নানা রকম অসতর্কতা এবং মার্জিন দেয়া, প্রশ্নের নম্বর লেখা, উত্তরপত্রের সাজ-সজ্জাসহ সময় ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় নাম্বার অনেক কম আসে এবং সারা বছরের কষ্টের প্রতিফল তারা পায় না। ফলে এসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং শিক্ষক ও অভিভাবকদের উচিত উক্ত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বার বার সচেতন করা।
বিশেষ কিছু পরামর্শ
পরীক্ষার হলে রচনামূলক প্রশ্ন লেখার ক্ষেত্রে মোট সময়কে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করে নিতে হবে।
প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর প্রশ্ন পড়ার জন্য ৫ মিনিট, প্রতি নম্বরের জন্য ২ মিনিট করে ১০০মিনিট, রিভিশন করার জন্য ১০ মিনিট এবং বিবিধ ৫ মিনিট। এভাবে সর্বমোট ১২০ মিনিট। শারীরিক ও মানসিকভাবে যাতে সুস্থ থাকো সেজন্য পরীক্ষার পূর্ব রাত্রে বেশি রাত জেগে পড়াশুনা করবে না এবং নতুন কোন পড়া না পড়ে কেবল রিভিশন দিবে ও পরীক্ষার হলে ব্যবহূত কলম, কালি, বলপয়েন্ট পেন, সাইন পেন. স্কেল, পেনসিল, হাতঘড়ি, প্রবেশপত্র রেজিঃ কার্ড ইত্যাদি প্রস্তুত করে একটি বক্সে রাখবে। আর পরীক্ষা শুরু হওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে পৌছবে এবং সিট কোথায় পড়েছে তা খুঁজে বের করবে।
