বয়সে যারা একটু প্রবীণ তাদের অনেকেই হয়তো মাঝে মাঝেই অভিযোগের সুরে তরুণদের অমার্জিত আচরণ নিয়ে কথা বলেন। এমনকি এ যুগের কম বয়সী তরুণদের মাঝে বিনয়ের অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কেউ কেউ। যদিও এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সবসময়ই বিষয়টিকে প্রজন্মের ব্যবধান বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে তরুণরা। কিন্তু তরুণদের জন্য দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যে পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে কিন্তু প্রবীণদের করা অভিযোগেরই সত্যতা মিলেছে। নানা তথ্য ও উপাত্ত বিশে¬ষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, অন্য অনেক সময়ের তুলনায় সত্যিকার অর্থেই এ যুগের তরুণ, বিশেষত যুক্তরাজ্যের তরুণদের আচরণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অমার্জিত হয়ে উঠেছে। মূলত যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেটেডপিপলডটকমের পক্ষে এই গবেষণা জরিপটি পরিচালনা করে যুক্তরাজ্যের ইউগভ সারভে নামের অন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠান। জরিপের অংশ হিসেবে এক হাজার প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে নির্বাচিত কিছু বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় এবং এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের সঙ্গে ৫৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের আচরণের তুলনা করা হয়। ফলাফল বিশ্লে¬ষণে দেখা যায় কম বয়সীদের ২৩ শতাংশের মাঝেই সাধারণ সৌজন্যতাবোধের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ বা কম বয়সীদের ১৮ শতাংশই নারী অথবা বয়স্কদের সম্মানে ঘরের দরজা খুলে দেওয়ার মতো সৌজন্য দেখায় না। অন্যদিকে বাস বা ট্রেনের মতো গণপরিবহনে চলাচলের সময় গর্ভবতী নারীদের জন্য আসন ছেড়ে দিতে রাজি হয় না ১৭ শতাংশ কম বয়সী। একই ধরনের পরিস্থিতিতে বৃদ্ধদের জন্য এ ছাড় দিতে আগ্রহী নয় ১২ শতাংশ এবং তরুণদের ৩৫ শতাংশই তাদের প্রতিবেশীদের সম্পর্কে খোঁজখবর রাখে না। যদিও ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার মাত্র ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া একই জরিপে তরুণদের কম বিনয়ী হওয়ার প্রমাণ মেলে ডাকপিয়ন, নির্মাণ শ্রমিক বা দুধওয়ালাকে চায়ের অনুরোধ করা কিংবা সেলুনে বকশিশ দেওয়ার ক্ষেত্রেও।
