কুমিল্লায় ‘ডাক্তারের অবহেলায়’ ইউপি সদস্যের মৃত্যু

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪৯
কুমিল্লায় ‘ডাক্তারের অবহেলায়’ নুরুল আমিন নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনার পর ওই সদস্যের স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা সন্তানের ভবিষ্যত্ চলা ও উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজ (ইএমসি) এন্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনায় শুক্রবার রাতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও থানা পুলিশের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সমঝোতা বৈঠকে ইএমসি কর্তৃপক্ষ তাদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানালে এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চলমান উত্তেজনার নিরসন হয়। জানা যায়, ১৪ জানুয়ারি উপজেলার মোকাম ইউপি’র সদস্য পরিহলপাড়া গ্রামের নুরুল আমিনকে (৪৫) বুকে ব্যথাজনিত কারণে ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজ (ইএমসি) এন্ড হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। ওইদিন দুপুরে তিনি মারা গেলে ‘ডাক্তারের অবহেলায়’ ওই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে এলাকাবাসী হামলা চালিয়ে হাসপাতালের গাড়ি ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এ ঘটনার সময় কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়। এদিকে এ ঘটনায় গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে শংকিত হয়ে পড়েন মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ১৮ জানুয়ারি রাতে ওই মেডিক্যাল কলেজে মোকাম ইউপি’র চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে এক সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বুড়িচং থানার ওসি মো. আমিরুল আলম, ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতালের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম, পরিচালক ডা. আবদুল কুদ্দুস আখন্দ, ডা. আতাউর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের ও আবদুস সালাম, এড. শরিফুল ইসলামসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মানবিক দৃষ্টিকোণে হাসপাতালের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম ওই ইউপি সদস্যের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর জন্য দুঃখ ও অনুশোচনা প্রকাশ করেন। ওই বৈঠকে তিনি মৃত ইউপি সদস্যের স্ত্রী লুত্ফুন নাহারকে (৩২) যোগ্যতা অনুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়া এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুকন্যা নাহিদা আক্তারের (৭) উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত লেখাপড়ার সার্বিক দায়-দায়িত্ব গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানটির আশপাশের এলাকার লোকজনের চিকিত্সা খরচের ২৫ শতাংশ ছাড় দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।