রাবিতে শিক্ষকদের কোন্দল চরমে

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫০
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থি শিক্ষকদের ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজে’ অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিবদমান শিক্ষকরা রাবি’র বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহানের পক্ষে-বিপক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। শিক্ষকদের অভিযোগ, ‘দলের মধ্যে নিজের গ্রুপ সৃষ্টি, শিক্ষক নিয়োগে আর্থিক লেনদেন, সরকার প্রতিশ্রুত মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন ও সিনেট কার্যকর না করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রগতিশীল শিক্ষকদের একাংশ উপাচার্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। প্রগতিশীল শিক্ষকদের অভিযোগ, ‘২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্নভাবে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে উপাচার্য প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজে নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করেছেন। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর প্রগতিশীল শিক্ষকদের একাংশ এবং বিএনপি ও জামায়াতপন্থি শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিষদের সভা বর্জন করেন। যদিও সভাটি ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠানের কথা ছিল। কিন্তু সিনিয়র শিক্ষকদের বর্জনের আশঙ্কায় সভার তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারণ ও শিক্ষকদের ম্যানেজের চেষ্টা হয়। কিন্তু তা ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠার ৬০ বছরে পা দেয়া দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মত শিক্ষা পরিষদের সভায় কোরাম সংকট দেখা দেয়। অবশ্য পরের দিন উপাচার্যপন্থি শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় কোরাম পূর্ণ হয়। এদিকে গত ৭ জানুয়ারি উপাচার্য বিরোধী বলে ক্যাম্পাসে পরিচিত শিক্ষকরা ‘মহাজোট সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে’ ক্যাম্পাসে আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করেন। অপরদিকে গত ১০ জানুয়ারি উপাচার্যপন্থি প্রগতিশীল শিক্ষকরা ‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ উপলক্ষে ক্যাম্পাসে র্যালি ও প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। একই মতাদর্শের হলেও প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের বিবদমান শিক্ষকরা একে অপরের কর্মসূচিতে একত্রে অংশ নিচ্ছেন না। এ ব্যাপারে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একাংশের প্রভাবশালী সদস্য প্রফেসর শফিকুন্নবী সামাদী বলেন, ‘নানা কারণে দলের মধ্যে মতবিরোধ থাকতে পারে। প্রশাসন প্রয়োজন মনে না করলেও আমরা সরকারের চার বছর পূর্তিতে র্যালি করেছি। এছাড়া প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা দলে তীব্র কোন্দলের অভিযোগ অস্বীকার করেন। উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।