বিমানবন্দরে মশার উপদ্রব

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১৫
নিউজিল্যান্ডের নাগরিক রুবেন লিভারমুর। ব্যবসার কাজে আসেন ঢাকায়। তিনদিন পাঁচতারকা হোটেলে থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ঢাকা ত্যাগ করবেন। ইমিগ্রেশন সেরে থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছেন। মশা জেঁকে ধরেছে তাকে। ফ্লাইট এর সময়সূচি পেছানোর কারণে চোখে মুখে তন্দ্রাভাব। খবরের কাগজ পড়ে পাশের চেয়ারে রেখেছেন। হঠাত্ করে তিনি খবরের কাগজ দিয়ে নিজের মুখে আঘাত করলেন। অন্য যাত্রীরা তার দিকে ফিরে তাকালেন। এরপর তিনি সেই খবরের কাগজ দিয়ে মুখের সামনে বাতাস করছেন। বিমানবন্দরের হিমশীতল পরিবেশে তার গরম লাগার কথা নয়। একটু পরই সবার ভুল ভাঙলো। তার সামনে উড়ছে ঢাউশ সাইজের তিন-চারটি মশা। শুধু যাত্রীদের অপেক্ষার জায়গায় নয়, গোটা বিমানবন্দর জুড়েই মশার রাজত্ব। এরকম একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মশারা দীর্ঘদিন রাজত্ব করলেও তা যেন দেখার কেউ নেই। জানা গেছে, এ খাতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের আলাদা কোন বাজেট নেই। সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণ খাত থেকে মশা মারার টাকা ব্যয় করা হয়ে থাকে। জানা গেছে, রাজধানী শহরের মশা নিধনের কাজটি সিটি কর্পোরেশনের হাতে থাকলেও বিমানবন্দরে তা করে থাকে সিভিল এভিয়েশন। বাইরের একটি কোম্পানিকে এ কাজটি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, একশ্রেণীর কর্মকর্তার সাথে ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি অনেক সময় কাজ না করে বিল তুলে নেয়। আর মশা নিধনের দেখভাল করার দায়িত্বে সিভিল এভিয়েশনের যারা জড়িত তারাও ঠিকমতো কাজটি করেন না। গত বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে মশার তীব্র উত্পাত দেখা গেছে। বিমানবন্দরের বাইরে থেকে শুরু করে ভেতরে এমনকি ভিআইপি লাউঞ্জেও মশার উপদ্রব দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের প্রবেশ মুখে শুরু হয় উত্পাত। এরপর বহির্গমন টার্মিনাল এলাকার প্রতিটি স্থানে একই দশা। ভেতরে যাত্রীদের বসার জায়গা থেকে শুরু করে ডিউটি ফ্রি দোকান সবখানেই মশা। বিদেশগামী যাত্রীরা বিমানবন্দরে কিছু খেতে গেলেও তার জো নেই। খাবার পরিবেশেন করা হলে সেখানে মশা এবং মাছি জেঁকে ধরে। কোন কোন সময় মশাগুলো বোর্ডিং ব্রিজ পার হয়ে উড়োজাহাজে পর্যন্ত ঢুকে পড়ে। এ নিয়েও যাত্রীদের বিরক্তি চরমে উঠে। এদিকে যেসব যাত্রী দেশের বাইরে থেকে দেশে আসেন তাদেরও মশার কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। উড়োজাহাজ থেকে নামার পর লাগেজ সংগ্রহ করতে বেল্ট পর্যন্ত আসতেই মিলবে মশার দেখা। লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে হলেও যাত্রীদের খেতে হয় মশার কামড় । শুধু বিমানবন্দরের ভেতরেই নয়, বাইরেও মশার উত্পাত রয়েছে। বিমানবন্দরের আশপাশের ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার করা হয় না। সেখানে মশা নিধনের জন্য স্প্রে করার কথা থাকলেও তা করা হয় না। কিন্তু এ কাজটির জন্যও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ অর্থ ব্যয় করে থাকে। এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) গ্রুপ ক্যাপ্টেন শফিকুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার কারণেই এলাকায় রানওয়ের আশপাশে জলাশয় ও কিছু ঝোপ রাখা হয়েছে। এসব জায়গা থেকে মশা বংশবিস্তার করছে। এছাড়া বিমানবন্দরের পাশেই রয়েছে টংগী শিল্পাঞ্চল। সেখানেও মশা বংশবিস্তার করছে। তিনি জানান, বিমানবন্দরে দৈনিক দুইবার করে মশা নিধনের কাজ চলে। এরপরও দ্রুত বংশবিস্তার করায় উত্পাত কমছে না।