ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও সরাইলে পৃথক সংঘর্ষে মহিলাসহ অর্ধশত লোক আহত হয়েছে। এসময় কমপক্ষে ১৫টি বাড়ির ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ৫৯ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পুলিশ ৮ জনকে গ্রেফতার করে।
শনিবার সকালে বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে জমিতে পানি দেয়াকে কেন্দ্র করে ভুঁইয়া গোষ্ঠীর কাদির ও লঘু গোষ্ঠীর হোসেন মেম্বারের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দুপুর পর্যন্ত সংঘর্ষকালে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত ইউনুস মিয়া, জসিম ভূঁইয়া, নান্নু মিয়া, লোকমান, আশিকুল, কালাম মিয়া, মনোয়ারা বেগম, হিরণ ভুঁইয়া, শফিক ভুঁইয়া, সায়েদ ভুঁইয়া, ফজল মিয়া, হূদয় ভুঁইয়া, সাচ্চু ভুঁইয়া, আল আমিন, আতিক, মুসা মিয়া, তৈয়ব ও সৈয়দ হোসেনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় দাঙ্গাবাজরা ১৫টি ঘরে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আহমেদ নিজামী জানান, গ্রামে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে সরাইলের অরুয়াইল ইউনিয়নের ধামাউড়া গ্রামে গাজী গ্রুপের লোকেরা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বারী গ্রুপের আলী হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। খবর পেয়ে অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আছহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ গেলে শফিকের নেতৃত্বে গ্রামবাসী পুলিশের উপর হামলা করে। হামলায় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ৫৯ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ সদস্যরা এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পায়। রাতে পুলিশ গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে জালু মিয়া , মিস্টু মিয়া , সৈয়দ কাজী , হাসনা বেগম, আবুনী বেগম, সোহরাব মিয়া, ইয়াকুব মিয়া ও হোসেন মিয়া। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম চক্রবর্তী জানান, গত শুক্রবার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে একটি ও আক্রান্ত বাড়ির মালিক বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে।
