জন্মবার্ষিকীতে জিয়ার মাজারে খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০৬
বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো যথাযথ মর্যাদায় দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেছে। গতকাল শনিবার সকালে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফুল দেয়ার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমন্বয় তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, দলীয় সরকারের অধীনে আগামীতে একদলীয়ভাবে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ষড়যন্ত্র করছে সরকার। এরই অংশ হিসাবে জনগণকে বিভ্রান্ত ও নির্বাচনমুখী করতেই সরকার আগে সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নির্বাচনের কথা বলছে। কিন্তু এ ষড়যন্ত্র কখনো বাস্তবায়ন হবে না। জাতীয় নির্বাচনের আগে আর কোনো নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। তরিকুল ইসলাম বলেন, একদলীয় নির্বাচনের ষড়যন্ত্র থেকে সরকার এখনো ফিরে আসেনি। আমরা চাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, যেটা এতদিন হয়ে এসেছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন বিএনপির কাছে কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তীব্রতর আন্দোলনের বিষয়টিই আমাদের কাছে মূল বিবেচ্য। বিএনপির সমন্বয়ক বলেন, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম-১২ আসনের উপ-নির্বাচনে মানুষ ভোটকেন্দে যায়নি। নির্বাচন কমিশন ভুয়া ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জয়ী করেছে। তিনি বলেন, আন্দোলন করা সবার সাংবিধানিক অধিকার। সংবিধান যেখানে বিচারপ্রার্থী, সেখানে কী বলার আছে! তিনি অভিযোগ করে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেসব সদস্য বিরোধী দলের নেতাদের ওপর নির্যাতন করছে তাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাদেরকে বিরোধী দলের নেতাদের নির্যাতন করতে উস্কানি দেয়া হচ্ছে। পুলিশের এডিসি হারুন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর হামলা করে তাকে রক্তাক্ত করেছেন, বিশ্বজিত্ হত্যার সময় দায়িত্বে থাকলেও তাকে তিনি বাঁচাতে আসেননি। অথচ সরকার তাকে পিপিএম পুরস্কার দিয়েছে। পিপার স্প্রে বন্ধের দাবি জানিয়ে তরিকুল বলেন, মানুষ মারার কারিগর শিক্ষকদের ওপর এটা নিক্ষেপ করা হয়েছে। একজন শিক্ষকের মৃত্যুও হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এটার ব্যবহার বন্ধের কথা বলছে। আমরাও সরকারকে দ্রুত পিপার স্প্রে বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজার প্রাঙ্গণে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল। জিয়ার মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর খালেদা জিয়াও এতে শরিক হন। বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এমকে আনোয়ার, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল মান্নান, শামসুজ্জামান দুদু, আমান উল্যাহ আমান ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ছাড়াও দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন সমূহের নেতা সাইফুল আলম নীরব, হাবিব উন নবী খান সোহেল, মীর সরফত আলী সপু, নুরে আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল ও হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ কয়েকশ নেতা-কর্মী এসময় উপস্থিত ছিলেন। খালেদা জিয়ার পরে ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, ওলামা দল, মত্স্যজীবী দল, তাঁতী দল, ড্যাব, ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন, জাসাস, জিসাস, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।