চলতি মৌসুমে দুই দফায় বোরোর বীজতলা তৈরি করেছিলেন তানোর উপজেলার আমশো গ্রামের কৃষক ইসরাইল হোসেন। কিন্তু তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় তার বীজতলা নষ্ট হয়েছে। নিরুপায় হয়ে তিনি তৃতীয় দফায় বোরোর বীজতলা তৈরি করেছেন। কিন্তু অসময়ে বীজতলায় চারা গজাবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। শুধু ইসরাইল নয়, পার্শ্ববর্তী যুগিশো গ্রামের কৃষক জাফর ও কৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুল মতিনসহ তানোরের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ কৃষকের বোরোর বীজতলা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় নষ্ট হয়েছে। ফলে চলতি বোরো মৌসুমের শুরুতেই তানোরে বোরোর চারার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসসূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে তানোরে ২২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের টার্গেট রয়েছে। কিন্তু শীত ও ঘন কুয়াশায় অধিকাংশ কৃষকের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় বোরো আবাদের পরিমাণ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে যেসব কৃষক পুরো শীতের সময় রাতে বোরোর বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছেন এবং দিনে সূর্যের আলো দেখার পরই কেবল পলিথিন সরিয়েছেন তাদের বীজতলা নষ্ট হয়নি।
ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, গত ডিসেম্বরের শুরু থেকে তিনি প্রতিরাতে বোরোর বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন। যারা ঢেকে রাখেননি তাদের পুরো বীজতলা শীত ও ঘন কুয়াশায় দুই দফায় নষ্ট হয়েছে। দুই দফায় বীজতলা নষ্টের পর অনেক কৃষক আর তৃতীয়বার বীজতলা তৈরির ঝুঁকি নেননি। তবে অনেক কৃষক তৃতীয়বার বীজতলা তৈরি করেছেন। আবার অনেক কৃষক পলিথিনের চাদরে ঢেকে রেখে পুরো বীজতলা আগলে রেখেছেন।
আমশো গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, দুই দফায় বোরোর বীজতলা নষ্টের পর তৃতীয় বীজতলা রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন। সিধাইড় গ্রামের আব্দুল মালেক বলেন, উপজেলার কোথাও কোথাও বোরোর আবাদ শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে দেখা দিয়েছে বোরোর চারা সংকট। বোরো আবাদের ভরা মৌসুমে তানোরের কৃষকদের তীব্র চারা সংকটের মোকাবিলা করতে হবে বলে তিনি আশঙ্কা করেন। জিলৌ গ্রামের কৃষক মুনসুর রহমান বলেন, প্রতি বছর তিনি ৪ বিঘা জমিতে বোরোর আবাদ করেন। দুই দফা নষ্টের পর তৃতীয় বীজতলায় এখনো বোরোর চারা উত্পন্ন না হওয়ায় বোরোর জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। উপজেলার সমস্ত কৃষকের অবস্থাও তার মতই। ফলে ভরা মৌসুমে বোরোর চারার দাম কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। আর চারার দাম অস্বাভাবিক হলে তার মত গরিব অনেক কৃষকের পক্ষে চারা কিনে বোরোর আবাদ অসম্ভব হয়ে পড়বে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. হাসানুল কবীর কামালী বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় অসতর্ক অনেক কৃষকের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। যাদের বীজ নষ্ট হয়েছে, তাদের আবারো বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে কুয়াশার কবল থেকে বীজতলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় কীটনাশক সেপ্র এবং রাতে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
