টাকা থাকলে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই অবৈতনিক করতাম

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৫
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পরীক্ষায় শতভাগ পাসের পরিবেশ সৃষ্টি করছি। পাস করার পর শতভাগ ছেলে-মেয়ে যাতে ভর্তি হতে পারে সে ব্যবস্থা রেখেই আমরা পরীক্ষা নিচ্ছি। বেশি পাস করলে পত্রপত্রিকাগুলো আসন সংকটের কথা বলে। এ ধরনের কোনো সমস্যা নেই। আমরা শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছি। শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে বাস্তবায়নের কাজ করছি। শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষিতের হার বৃদ্ধি ও পাসের হার বাড়াতে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। গতকাল শনিবার দুপুরে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি আয়োজিত এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, বিশ্ব মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশ একটা ভাল অবস্থানে আছে। ইনশাল্লাহ দেশে খাদ্যের আহাকার থাকবে না। আমাদের ডিজিপির প্রবৃদ্ধির হার ভাল। কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতা আমরা অর্থবহ করতে চাই। বাংলাদেশকে আমরা একটা উন্নত সমৃদ্ধশালী ক্ষুধা দারিদ্র্য মুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব। গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি রেড ক্রিসেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান ও সমাজসেবক শেখ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী লে. কর্নেল (অবঃ) ফারুক খান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও সমাজ কল্যাণ উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাড. মোল্লা মো. আবু কাওসার, গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবেক সচিব শৈলেন্দ নাথ মজুমদার, গোপালগঞ্জ সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের অধ্যক্ষ এম.এ হাই, সরকারি এস.এম মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুক দেব ভক্ত, কৃতী শিক্ষার্থী ফাতেমাতুজ জোহরা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, বঙ্গবন্ধু মেয়েদের শিক্ষাকে অবৈতনিক করে দিয়েছিলেন। আমরা এখন ৪০ ভাগ ছেলে-মেয়েকে উপবৃত্তি দিচ্ছি। আমাদের হাতে টাকা থাকলে আমরা বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অবৈতনিক করে জাতীয়করণ করে দিতাম। এমনকি মাস্টার্স পর্যন্ত অবৈতনিক করে দিতে পারতাম। তারপরও প্রতিটি প্রাইমারি স্কুলে আমরা পাকা দালান করে দিয়েছি। ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১ লাখ ৪ হাজার শিক্ষককে জাতীয়করণ করেছি। প্রত্যেক উপজেলায় আমরা একটি করে মডেল স্কুল তৈরির কাজ শুরু করেছি। মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম চালু করেছি। পর্যায় ক্রমে দেশের সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এটা চালু করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার ল্যাবের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ১২টি বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছি। বিজ্ঞান প্রযুক্তির যুগে আমাদের ছেলে-মেয়েরা পিছিয়ে থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবন্ধী ও অথিস্ট্রিক শিশুরা সমানভাবে শিক্ষার সুযোগ পাবে। তাদের অবহেলা করা যাবে না। তাদের সহযোগিতা করে শিক্ষিত করে সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, এফবিসিসিআই এর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ্যাড. সামসুল হক টুকু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শিরিন শারমিন চৌধুরী, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সামরিক-বেসামরিক পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন ও সমিতির কোষাধ্যক্ষ অতিরিক্ত সচিব শহিদুল্লাহ খোন্দকার প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি ২০১২ সালের এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত জেলার কৃতী ৬৬০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও সংবর্ধনা প্রদান করেছে। সংবর্ধনা শেষে প্রধানমন্ত্রী স্টান্ডার্ড ব্যাংক টুঙ্গিপাড়া শাখার উদ্বোধন এবং কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ও ভাঙ্গারহাট বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে নিজের ত্রাণ তহবিলের চেক বিতরণ করেন। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া পৌঁছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, ভৌত অবকাঠামো, গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নতুন ভবন ও হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক অফিসের কার্যক্রমের উদ্বোধন করে।