জনসমুদ্রে ওবামার শপথ সোমবার

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৭
সবাই ছুটছেন উত্সবমুখর রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির দিকে। বাস-ট্রেনে কোথাও আসন খালি নেই। সবার একটাই আকাঙ্ক্ষা, তাদের প্রিয় প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। শুধু যে গণপরিবহনে আসন নেই তা নয়, ওয়াশিংটন ডিসি এবং আশপাশের রাজ্যের হোটেলগুলোতেও কোনো জায়গা নেই। বাসা-বাড়িতেও স্বজনদের ভিড়। সর্বত্র গিজিগিজ করছে মানুষ। ওয়াশিংটন ডিসির পার্শ্ববর্তী ভার্জিনিয়া রাজ্যে বসবাসরত একাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি জানিয়েছেন, ওবামার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই অতিথির আগমন ঘটেছে, যাদের সবাই দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন শপথ অনুষ্ঠান উপভোগ করতে। অন্যদিকে নিউইয়র্কে বসবাসরত শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি আমন্ত্রণপত্র পেয়েও ওবামার শপথ অনুষ্ঠানে যেতে পারছেন না। শুক্রবার অনেকে বাস-ট্রেনের টিকিট না পেয়ে মন খারাপ করে ফেরত এসেছেন। পার্কিং সুবিধা না থাকায় এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করায় তারা নিজেদের যানবাহনে করেও ওয়াশিংটন ডিসিতে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। প্রবাসী বাংলাদেশি আনসারুল আজিম জানিয়েছেন, তিনি কংগ্রেস থেকে আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন। কিন্তু বাস টারমিনালে গিয়ে জানতে পারেন সব টিকিট ৩-৪ দিন আগেই অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। কোনো কোনো গণপরিবহনে যাওয়ার টিকিট থাকলেও ইচ্ছামত ফেরার টিকিট নেই। এদিকে ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ অনুষ্ঠানে ৮ লাখ লোকের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৫৭তম প্রেসিডেন্ট অভিষেক কমিটির (পিআইসি) তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসই প্রায় আড়াই লাখ আমন্ত্রণপত্র বিলি-বিক্রি করেছে। এর আগে ২০০৯ সালে ওবামার প্রথম মেয়াদের শপথ অনুষ্ঠানে প্রায় ১৮ লাখ লোকের সমাগম ঘটেছিল ওয়াশিংটন ডিসিতে। যা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের চেয়ে চারগুণেরও বেশি। মার্কিন প্রথা অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই হিসাবে স্থানীয় সময় রবিবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে হোয়াইট হাউজে শপথ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জন রবার্ট তাকে শপথ পাঠ করান। এসময় পরিবারের সদস্য ও হোয়াইট হাউজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে এটি ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম এবং সোমবার জনসম্মুখে দ্বিতীয়বার শপথ অনুষ্ঠান। ২০০৯ সালে একইভাবে দু’বার শপথ নিয়েছিলেন ওবামা। বারাক ওবামা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ঠাঁই করে নিয়েছেন। গত ৬ নভেম্বরের নির্বাচনে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। তার এই শপথ অনুষ্ঠানকে জমকালো করতে যারপরনাই চেষ্টা চালাচ্ছে আয়োজক কমিটি। যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন এবং অহিংস আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ব্যবহূত বাইবেল ছুঁয়ে শপথ নেবেন দেশটির ৪৪তম প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। জনসম্মুখে শপথ অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় এ অনুষ্ঠানটি ৫৭তম। দ্বিতীয় মেয়াদের শপথ অনুষ্ঠান এমন একটি দিনে হচ্ছে যেদিন অহিংস আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের জন্মদিন এবং এ দিনটি রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আব্রাহাম লিংকন ১৮৬৩ সালের ১ জানুয়ারি ‘মুক্তির ঘোষণা’র মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে দাস প্রথা অবসানের ডাক দেন। চলতি বছর ঐতিহাসিক সেই ঘটনার ১৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে। অন্যদিকে ১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট মার্টিন লুথারের নেতৃত্বে কৃষ্ণাঙ্গদের নাগরিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের দাবিতে ওয়াশিংটন ডিসি অভিমুখে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই লাখ থেকে তিন লাখ মানুষ অংশ নেয়। সামনের আগস্ট মাসে এ ঐতিহাসিক ঘটনার ৫০ বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে। তাই এ দুই নেতার ব্যবহূত বাইবেল নিয়ে ওবামা শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের অভিষেক বিষয়ক কমিটির (পিআইসি) প্রেসিডেন্ট ও নির্বাহী প্রধান স্টিভ কেরিগান। স্টিভ কেরিগান জানান, ১৮৬১ সালের ৪ মার্চ লিংকন ওই বাইবেল নিয়ে শপথ পাঠ করেন। আর মার্টিন লুথারের বাইবেলের কপিটি লুথার কোথাও ভ্রমণের সময় নিজের সঙ্গে রাখতেন। এর আগে ২০০৯ সালে ওবামাই প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় লিংকনের বাইবেল নিয়ে শপথ নেন। সাংবিধানিক কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বাইবেল নিয়ে প্রেসিডেন্টদের শপথ গ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রে একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এদিকে, ওবামার শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। চলছে অনুষ্ঠানের নানা মহড়া। ওবামার অভিষেক অনুষ্ঠান জাঁকজমক করতে অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন পপ তারকা বিয়ন্স নোলস, কেলি ক্লার্কসন ও লোকসংগীত শিল্পী জেমস টেলর। এছাড়া কিউবার বংশোদ্ভূত মার্কিন সমকামী কবি রিচার্ড ব্ল্যানকোই উপস্থিত থাকবেন। এমনি এই অনুষ্ঠানের জন্য কবি ও সংগীতশিল্পীদের তালিকা তৈরিতে সহায়তা দিচ্ছেন খোদ প্রেসিডেন্ট নিজেই। আয়োজকরা বলছেন, ব্ল্যানকোই (৪৪) প্রথম সমকামী হিস্পানিক কবি হিসেবে অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে জেমস টেলর ও বিয়ন্স ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামার প্রথম অভিষেক অনুষ্ঠানেও সংগীত পরিবেশন করেছিলেন। অভিষেক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাকারীরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিয়ন্সকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। অপর বিখ্যাত পপ গায়িকা কেলি ক্লার্কসন গাইবেন ‘মাই কান্ট্রি টিজ অব দ্য’ এবং জেমস টেলর গাইবেন ‘আমেরিকা দ্য বিউটিফুল।’ এদিকে এবারই ওবামার অভিষেক অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ ও অন্যান্য আয়োজনের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের আয়োজনে কর্মীরা অস্থায়ী সাজসজ্জার কাজ পুরোদমে চালিয়ে গেলেও এ অনুষ্ঠানের ব্যাপারে গোপনীয়তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। তবে আয়োজকদের (পিআইসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়, আনুষ্ঠানিক শপথ অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের যথার্থ প্রবেশাধিকার থাকবে। শপথ গ্রহণের পর বারাক ওবামা জনসমুদ্রে ভাষণ দেবেন। ভাষণ শেষে প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সস্ত্রীক অংশ নেবেন প্যারেডে। এরপর প্রেসিডেন্ট ওবামা মোটর শোভাযাত্রা সহকারে হোয়াইট হাউজে যাবেন।