শহীদ আসাদ দিবস আজ। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি আইয়ুব-বিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ। তার শাহাদাত বরণের মধ্য দিয়ে তত্কালীন আইয়ুব শাহীর পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। এ ছাড়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে।
আসাদ স্কুল-জীবন থেকেই ছিলেন রাজনীতি সচেতন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে গভীর ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ) ঢাকা শাখার সম্পাদক এবং ঢাকা হল শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। মওলানা ভাসানীর অনুসারী আসাদ অল্প সময়ের মধ্যেই একজন সাচ্চা সংগঠক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন।
১৯৬৯ সালের শুরুতে পূর্ববাংলায় আইয়ুবের স্বৈরতান্ত্রিক শাসন উচ্ছেদের আন্দোলন তীব্র হতে থাকলে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঘোষিত ১১ দফা কর্মসূচিকে বানচাল করার লক্ষ্যে মিছিল সমাবেশের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ নেতৃবৃন্দ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনের রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে ছাত্র-পুলিশ-ইপিআর সংঘর্ষ বাধে। এ পরিস্থিতিতে বেলা আনুমানিক আড়াইটায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পূর্ব দিকে প্রধান ফটকের পাশে পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে আসাদ শহীদ হন।
শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান এক বাণীতে বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ২০ জানুয়ারি একটি তাত্পর্যপূর্ণ দিন। ১৯৬৯ সালের এই দিনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। আমি আসাদসহ আত্মোত্সর্গকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।’
অন্য এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনে ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান দেশমাতৃকার জন্য নিজের জীবন উত্সর্গ করেছিলেন। আমি তার আত্মদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।’
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার বাণীতে বলেন, ‘আমাদের স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদ আসাদ এক চিরস্মরণীয় নাম। স্বৈরশাসকের কবল থেকে স্বজাতির ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ে এবং গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে অকুতোভয় আসাদ রাজপথে জীবন উত্সর্গ করে গেছেন। আমি তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।’
প্রতি বছর ২০ জানুয়ারি আসাদ পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদ আসাদ দিবস পালন করে। এবারও শহীদ আসাদ পরিষদসহ এসব সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করবে।
এ দিকে আমাদের শিবপুর (নরসিংদী) সংবাদদাতা জানিয়েছেন, আসাদের জন্মভূমি নরসিংদীর শিবপুরে দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শহীদ আসাদ কলেজিয়েট গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং শিবপুর শহীদ আসাদ সরকারি কলেজের পক্ষ থেকেও দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
