সরকারের মেয়াদ শেষে পাকিস্তানে পরিস্থিতির নাটকীয় মোড়

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৯
পাকিস্তানে পাঁচ বছর মেয়াদি বেসামরিক শাসনের শেষ পর্যায়ে এসে দেশটির পরিস্থিতি হঠাত্ করেই নাটকীয় মোড় নিতে শুরু করেছে। সামরিক শাসনের সমর্থক হিসাবে পরিচিত ধর্মীয় নেতা তাহির কাদরি মাটি ফুঁড়ে বেরোনোর মত কানাডা থেকে দেশে ফিরে গণতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটাতে অভ্যুত্থানের হুমকি দিলেন এবং গত ১৪ জানুয়ারি বিশাল মিছিল নিয়ে ইসলামাবাদে প্রবেশ করলেন। তিনি সেদিন গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনলেন যে, তারা সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে ফেলছে। এর পরদিন ১৫ জানুয়ারি দেশের প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয় পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। এছাড়া এই সরকারের শেষ পর্যায়ে এসে দেশটির বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটছে ঘন ঘন। সর্বশেষ এমন একটি ঘটনায় ৮৬ জন প্রাণ হারাল বেলুচিস্তানে। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে ইদানিং। পাকিস্তানিদের মধ্যে ভারতীয় হামলার আশঙ্কা প্রবল। এসব ঘটনার সঙ্গে পাকিস্তানের ভবিষ্যত্ পরিস্থিতির একটা যোগসূত্র নির্ধারণের চেষ্টা করেছে দ্য ইকোনমিস্ট। পত্রিকাটির ‘দ্য সোলজার’র ডেঞ্জারাস ইচ’ শিরোনামে লেখা এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, বছরটি পাকিস্তানের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদ এবছরই পূর্ণ হচ্ছে। একই সাথে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আশফাক কায়ানিকেও এবছর অবসর নিতে হবে। এমন একটা পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে এই নিবন্ধে। এতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও সুপ্রিম কোর্ট গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে চলেছে দীর্ঘদিন ধরে। তাহির কাদরির আকস্মিক আবির্ভাব, ঘন ঘন জঙ্গি হামলা, প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষ—এসব মিলিয়ে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে পাকিস্তানে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে বাংলাদেশের ‘ওয়ান ইলেভেন’ ধাঁচের সরকার গঠনের আশঙ্কার কথা আলোচিত হচ্ছে সেখানে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী যদি গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা থেকে রেহাই পেতে চায় তবে এটাই হচ্ছে তার মোক্ষম সময়।