জিয়াউদ্দিনকে দেখতে স্কয়ার হাসপাতালে

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩০
জলদস্যুদের গুলিতে আহত মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) জিয়া উদ্দিন আহমেদকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিট) রাখা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে হেলিকপ্টারে করে তাকে খুলনা থেকে ঢাকায় আনা হয়। তিনি ডা. পার্থ প্রতীমের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। এদিকে তাকে দেখতে গতকাল সন্ধ্যায় স্কয়ার হাসপাতালে যান জাতীয় পার্টি’র (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন এবং দ্রুত রোগ মুক্তি কামনা করেন। মেজর (অব.) জিয়া উদ্দিনের পারিবারিক সূত্র জানায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উন্নত চিকিত্সার জন্য মেজর জিয়াকে খুলনা সার্জিক্যাল অ্যান্ড মেডিক্যাল হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গতকাল শনিবার সকালে তাকে ঢাকায় আনা হয়। মেজর জিয়া’র ছেলে অনিরুদ্ধ জানান, শনিবার রাতে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। রবিবার তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হতে পারে। এদিকে জিয়া উদ্দিনের ছোট ভাই কামাল উদ্দিন জানান, মাথায় গুলি লাগার কারণে জিয়া উদ্দিনের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। চিকিত্সকরা তাকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিটে রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন। শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, সুন্দরবনের চরাপুটিয়া এলাকায় গত শুক্রবার দুপুরে বনদস্যুদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে তাকে খুলনা থেকে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় আনা হয়। মেজর জিয়াউদ্দিনের ভাই মো. কামাল হোসেন জানান, শুক্রবারই তাকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় নেয়ার কথা থাকলেও দুর্গম ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে সুন্দরবনে হেলিকপ্টার অবতরণ করতে না পারায় তা সম্ভব হয়নি। ওইদিন সন্ধ্যায় স্পীডবোটে প্রথমে তাকে মংলায় আনা হয় এবং প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়ার পরে রাতে খুলনার সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে ডা. গাজী মিজানুর রহমান তার চিকিত্সা করেন। তার কপালের বামপাশে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত। এদিকে সুন্দরবনে গোলাগুলির ঘটনায় চার বনদস্যু নিহত হলেও গতকাল পর্যন্ত তাদের লাশের সন্ধান মেলেনি। ঘটনার পর পরই র্যাব-৮, কোস্টগার্ড ও বন বিভাগ চরাপুটিয়া এলাকা কর্ডন করে অভিযান চালায়। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মংলার অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তাদের ৩২ সদস্যের একটি দল সুন্দরবনের চরাপুটিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত দস্যুদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।