নারীরা অপয়া বলে অনেক গৃহস্থই নারীদের দিয়ে তাঁতের কাজ করাতে রাজি হলেন না। শেষে নিজেই কম দামী জায়গা কিনে নারীদের কাজ করার ব্যবস্থা করি

নিজেরাই গড়ি নিজেদের

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫৪
প্রায় বিশ বছর আগের গল্প। সদ্য পড়াশুনার পাঠ চুকিয়ে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি করা যুবক। চাকরির সুবাদে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষগুলোর সাথে মেশার সুযোগ ঘটে অনেক বেশি। আর সেখান থেকেই উপলব্ধি নারীদের অবহেলা, অসহায় আর পিছিয়ে পড়া জীবনের। এক সময় তার মনে হলো শুধু চাকরি করে এই মানুষগুলোর ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই চাকরি ছেড়ে প্রতিষ্ঠা করেন একটি সংগঠনের। যেটি আজ বৃহত্তম নোয়াখালীর অনেক অসহায়, দুস্থ নারীর আশ্রয়স্থল। এন এর ডি এস (নোয়াখালী রুরাল ডেভলপমেন্ট সোসাইটি)। আর তরুণ হলেন আব্দুল আউয়াল। এই সংগঠন ছাড়াও শুধু নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই যুক্ত হয়েছেন অনেকগুলো আন্তর্জাতিক পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সাথে। পরিবেশ আর অবহেলিত নারীদের কথা বলতে ঘুরে বেড়িয়েছেন পৃথিবীর সত্তরটিরও বেশি দেশে। এন আর ডি এস সম্পর্কে বলেন, প্রথম যখন আমি কাজ শুরু করি তখন অনেকগুলো সমস্যার সম্মুখীন হই। যেমন নারীরা বাইরে কাজ করতে পারবে না। সে জন্য অনেক ভেবে তাঁতের কাজের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। এখানেও সমস্যা তৈরি হয়। নারীরা অপয়া বলে অনেক গৃহস্থই নারীদের দিয়ে তাঁতের কাজ করাতে রাজি হলেন না। শেষে নিজেই কম দামী জায়গা কিনে নারীদের কাজ করার ব্যবস্থা করি। সেই থেকে শুরু। এখন আমাদের অনেকগুলো প্রকল্প হাতে আছে। এর মধ্যে একেবারে দক্ষিণে হোগলা পাতা বেশি হয় বিধায় ওখানে নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন জিনিস তৈরি হচ্ছে। যেখানে পাতাগুলো অনেক বাজেভাবে নষ্ট হতো সেখানে নারীরা সেগুলোতে ভালো পয়সা উপার্জন করতে পারছে। এছাড়াও আমাদের ব্যাগ, কুটির শিল্প, মৃিশল্পসহ দেশীয় শিল্পকে উপস্থাপন করে এমন অনেকগুলো প্রকল্প রয়েছে। মিনতি রানি নাথ আমি চরকায় সুতা কাটি। আগে দু বেলা অন্ন ভালমতো জুটত না। এখন ভালই খাই-পরি। মাস শেষে পারিশ্রমিক ছাড়াও আমাদেরকে আলাদা ভাতা দেয়া হয়। আমার মতো অনেক নারীই এখানে কাজ করে সংসার চালাচ্ছে। কল্পনা রানি বৈষ্ণব আমি গত দশ থেকে বারো বছর যাবত্ কাজ করছি। এ দিয়ে আমার সংসার চলে। ভালই লাগে। নিজের হাতে কিছু টাকা-পয়সা থাকলে সবসময় ছোট মানসিকতায় ভুগতে হয় না। আমি অনেকদিন যাবত্ কাজ করছি বিধায় এই কারখানা,ঘরবাড়ি অনেক আপন মনে হয়। শিপ্রা রানি নাথ সূচিকর্ম করি। আগে আমি কিছুই করতাম না। এখানে এসে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। তারপর থেকে কাজ করছি। অযথা সময় নষ্ট হচ্ছে না। আবার কিছু টাকাও পাচ্ছি। সব মিলিয়ে আমার ভালোই কাটে। আবার এন আর ডি এস মাঝে মাঝে আমাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এক্ষেত্রে কাজের দক্ষতাও বাড়ে।