প্রবল ইচ্ছাশক্তিই পারে মানুষকে সাধারণ থেকে অসাধারণ করে তুলতে। পারে বিশ্বের ইতিহাসে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখতে। যেমনটা পেরেছেন ইন্দিরা গান্ধী, মাদার তেরেসা, লরা ডেকার, মেনা প্রিচার্ড এবং মরিয়ম আল সাফারসহ আরো অনেকেই। যাদের ইচ্ছাশক্তির ফসলই পরবর্তী প্রজন্মের প্রেরণা এবং উদ্দীপনা
মরিয়ম আল সাফার
নারীদের পর্দার অন্তরালে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে কঠোর আইন ব্যবস্থা, আছে নারীর স্বাধীনতা নিয়ে নানা বিতর্কতা। কিন্তু সব বিতর্ক আর প্রতিকূলতাকে জয় করে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছে সবার কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক তরুণী মরিয়ম আল সাফার। সব প্রতিকূলতাকে পিছনে ফেলে ইউএই-এর মেট্রো ট্রেনের চালক হিসেবে চাকরি পেয়েছেন ২৮ বছর বয়সী মরিয়ম। শুধু ইউএইতেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে তিনিই প্রথম নারী ট্রেনচালক। যদিও শুরুতে পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে। অত্যন্ত দক্ষতার সাঙ্গেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহরে ট্রেন চালাচ্ছেন মরিয়ম। প্রথম নারী ট্রেনচালক হিসেবে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করছেন মরিয়ম। এক সাক্ষাত্কারে মরিয়ম জানান, আমি সর্বদা চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। অবিবাহিত মরিয়ম আরো জানান, প্রত্যেকের একটি লক্ষ্য থাকা উচিত এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।
মেনা প্রিচার্ড
২৬ বছর বয়সী মেনা প্রিচার্ড প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে সন্তানকে পিঠে করে কয়েকটি পর্বত আরোহণ করেছেন। একটি বিশাল পর্বত আরোহণের সময় তার পিঠে ছিল সন্তান, কিন্তু ছিল না কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা। মেনা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়েকটি পর্বত আরোহণ করেছেন। আর এই প্রত্যেকটা পর্বত আরোহণের সময় তার কন্যা সন্তান ফিয়নকে নিয়েছেন কাঁধে করে। তবে এই পর্বতযাত্রার শুরু ফিয়নের বয়স যখন ৪ মাস তখন থেকেই। আর তিনি প্রথম আরোহণ করেন যুক্তরাজ্যের সাউথ ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বত পেন-ই ফেনএ। নিরাপত্তার প্রসঙ্গে মেনা জানান, আমাদের জীবন প্রতি মুহূর্তেই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শুধু পর্বত আরোহণ করলেই আমাদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে তা কিন্তু নয়। শুধু পর্বত জয় করাই মেনার শখ নয়। সমুদ্র ভ্রমণ করতেও ভাল লাগে তার। মেনা আরও জানান যে, আমি এমন কিছু করব না যা আমার বাচ্চাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
-মরিয়ম চম্পা
