বড় বাজারে কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না পোশাক রপ্তানি

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:০৬
ইউরোপ আমেরিকার মত বড় বাজারে দেশের রপ্তানি আয়ে নেতৃত্বদানকারী তৈরি পোশাক রপ্তানি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়ছে না। চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) বাংলাদেশের পোশাকের বড় বাজার ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ ও ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ হারে। চলতি বছর রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৫ শতাংশ হারে। এসব বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় সার্বিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে চলতি অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও সংশয় রয়েছে তাদের। বাংলাদেশে রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরা’র (ইপিবি) দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রথমার্ধে এই অঞ্চলের ২৬টি দেশে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ও ওভেন মিলিয়ে ৫৫২ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। আর চলতি অর্থবছরের গত ছয় মাসে রপ্তানি হয়েছে ৫৮১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এই সময়ে ওভেন রপ্তানি ১৬ শতাংশ বাড়লেও নিটওয়্যার রপ্তানি কমেছে এই অঞ্চলের দেশগুলোতে। গত ছয় মাসে ইইউ ইউনিয়নের এসব দেশে ৩৫১ কোটি ডলারের নিট পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৫৩ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। আর গত ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিটওয়্যার ও ওভেন মিলিয়ে রপ্তানি হয়েছে ২২৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের পণ্য। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২২১ কোটি ১৭ লাখ ডলার। ইউরোপ আর আমেরিকায় বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশের গন্তব্য। সামপ্রতিক সময়ে প্রধান এই দুই বাজারে মন্দা পরিস্থিতি চলছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, এর ফলে এসব অঞ্চলের দেশগুলোতে চাহিদা কমেছে। তবে ইউরোপে নিটওয়্যার রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে এসব দেশের মন্দা পরিস্থিতির চাইতে দেশের কারখানাগুলোর উত্পাদন সক্ষমতা কমে যাওয়াকে দুষছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইত্তেফাককে বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুত্ স্বল্পতার কারণে আমরা ঠিকমত উত্পাদন করতে পারছি না। নারায়ণগঞ্জের শিল্প এলাকায় এখন দিনের প্রায় ১২ ঘন্টা গ্যাস থাকে না। ফলে নিটওয়্যারের কাঁচামাল ফেব্রিক যথাসময়ে তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় অনেক সময় অর্ডার বাতিল করার মত ঘটনাও ঘটছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ না হলে নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানিতে গতি আসবে না বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া সামপ্রতিক সময়ে সাভারে তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে এসব বাজারের ক্রেতাদের পক্ষ থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা না পেলেও ইউরোপের বাজারে এই সুবিধা পেয়ে আসছে। তবে সমপ্রতি আমেরিকা বাংলাদেশে যে সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে (মোট রপ্তানির এক শতাংশেরও কম) তাও তুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছে। অতি সমপ্রতি ইউরোপও বাংলাদেশের বিদ্যমান জিএসপি সুবিধা বিবেচনা করবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে। তাদের অভিযোগ কারখানাগুলোতে কমপ্লায়েন্স (কর্ম পরিবেশ) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না। এর ফলে নতুন করে শংকা তৈরি হয়েছে এ দুটি বাজারে। তবে উদ্যোক্তারা কমপ্লায়েন্স শতভাগ চালু করতে না পারার জন্য ক্রেতাদের একেবারে কম দামে পোশাক কেনার মানসিকতাকেও দায়ি করছেন।