এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইসেন্স ৩ ফেব্রুয়ারি

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:০৭
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পাওয়া নতুন ৯টি ব্যাংকের মধ্যে প্রথম চূড়ান্ত লাইসেন্স পাচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মালিকানায় এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। এ লাইসেন্স পেতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে ব্যাংকের মেমো ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বোর্ড সভায় ব্যাংকটি অনুমোদন পাবে এবং মার্চ নাগাদ ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভা শেষে ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। এসকে সুর চৌধুরী বলেন, ব্যাংকের সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা- দেওয়ান মুজিবুর রহমান) ব্যাংকের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন । বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড ব্যাংকটির মেমো ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইসেন্স অনুমোদন দেয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে দেয়া শর্তগুলো পালন করার পর আরো কয়েকটি ব্যাংক ওই দিন তাদের ব্যাংকের মেমো ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারে বলে জানান তিনি। ওই সব ব্যাংকের মধ্য থেকেও চূড়ান্ত লাইসেন্স পেতে পারে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে। জানা গেছে, আয়কর বিবরণীতে প্রদর্শিত অর্থ থেকে মূলধন যোগানের শর্ত না থাকায় এ ব্যাংক প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করেছে। আর এ কারণেই তারা প্রথম লাইসেন্স পেতে যাচ্ছে। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্য দুটি এনআরবি ব্যাংক একই সুযোগ পেলেও এখনও তারা প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে পারেনি। অন্যদিকে দেশের বেসরকারি খাতে অনুমোদন পাওয়া ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের আয়কর বিষয়ক যাচাই বাছাই এখনও শেষ হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, বর্তমানে ব্যাংক ব্যবসা শুরুর জন্য ন্যূনতম ৪০০ কোটি টাকা সমপরিমাণ মূলধন প্রয়োজন। তবে এনআরবি কমার্শিয়ার ব্যাংক ৪৫০ কোটি টাকা দিয়ে কাজ শুরু করছে। ১২টি দেশে অবস্থান করা ৫৩ জন প্রবাসী বাংলাদেশি এ অর্থ তাদের বাংলাদেশে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছেন। আর এ ব্যাংকের মূল উদ্যোক্তা ১৪ জন। এ ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ফরাছত আলী (যুক্তরাষ্ট্র) এবং ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী (যুক্তরাজ্য)। এছাড়া আরো রয়েছেন, এবিএম আবদুল মান্নান (যুক্তরাষ্ট্র), অধ্যাপক ড. নুরুন নবী (যুক্তরাষ্ট্র), ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ তুষার ইকবাল রহমান (জার্মানী), অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম খান (যুক্তরাষ্ট্র), ডা. শাহানারা বেগম (যুক্তরাষ্ট্র), রাশিয়া প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম মিয়া আরজু (রাশিয়া), সরোয়ার জামান চৌধুরী সিপিএ (যুক্তরাষ্ট্র), মোহাম্মদ আদনান ঈমাম এফসিসিএ (যুক্তরাজ্য), আজিজ ইউ আহমেদ (যুক্তরাষ্ট্র), মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম (কুয়েত), ইঞ্জিনিয়ার তমাল এস এম পারভেজ (রাশিয়া) এবং মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম (যুক্তরাষ্ট্র)। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় দু’দফায় নতুনভাবে ৯টি ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন দেয়া হয়। ওই সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা নতুন ব্যাংক অনুমোদনের বিষয়ে বিরোধিতা করার পরও গত ৪ এপ্রিল প্রথমে প্রবাসী উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে তিনটি এবং ৮ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় দেশীয় উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে ৬টি ব্যাংক স্থাপনের অনুমোদন দেয় পর্ষদ। এরপর গত ১৭ এপ্রিল এসব ব্যাংকে ৬ মাসের মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উপযুক্ততা অর্জনের কথা বলা হয়। সে অনুযায়ী ১৬ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর আবেদন করার শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ে এনআরবি কমার্শিয়ালসহ ৭টি ব্যাংক আবেদন করলেও বাকীদের নানা অসঙ্গতি রয়েছে। এদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরের উদ্যোগে ফার্মার্স ব্যাংক এবং প্রবাসীদের মালিকানায় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক এখনও প্রয়োজনীয় মূলধন পূরণ করতে পারেনি। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উদ্যোগে ইউনিয়ন ব্যাংক, এস এম আমজাদ হোসেনের সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স, প্রধানমন্ত্রীর আয়কর আইনজীবী এম মনিরুজ্জামান খন্দকারের মিডল্যান্ড এবং সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এইচ এন আশিকুর রহমান ও নসরুল হামিদ বিপুর মেঘনা ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই শেষ হয়েছে। এই চারটি ব্যাংকেরই উদ্যোক্তার তালিকায় দু’একজন করে ঋণ খেলাপি রয়েছেন। এই সমস্যা সমাধান করতে এসব ব্যাংকে বলা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত আয়কর বিবরণী সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা দেয়নি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।