জীবিকা উপার্জনের জন্য যাদেরকে প্রায়শই নিজের অফিস কিংবা কর্মস্থলে উদয়াস্ত খাটতে হয় তাদের জন্য আজকের গল্পের নায়ক একজন ঈর্ষার পাত্রই বটে। কারণ গণমাধ্যমে নাম প্রকাশ না করা এই ব্যক্তি এতোদিন যে বেশ আয়েশের সাথেই কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের কাজটি একরকম বিনা পরিশ্রমেই করে যাচ্ছিলেন। আর এটি সম্ভব হয়েছিল নিজের কাজ চীনে একদল নবীন প্রোগ্রামারের কাছে আউটসোর্সিং করার মাধ্যমে। যদিও বিধি বাম। তিনি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার ব্যবস্থার ত্রুটি খুঁজে বের করতে যেয়েই বেরিয়ে আসে এই আলোচিত ঘটনা। জানা যায়, অফিসের নিরাপদ ও সুরক্ষিত নেটওয়ার্কে যেখানে বাইরের কারোই প্রবেশাধিকার থাকার কথা নয়, সেখানে কে বা কারা নিয়মিতভাবেই চীনের শেনইয়াং থেকে এই নেটওয়ার্কে ঢুকছিলেন। প্রথম দিকে এটাকে হ্যাকিং এর ঘটনা ভেবে বেশ উদ্বিগ্নই হয়ে পড়েছিলেন বিষয়টি প্রথম লক্ষ্য করা এক কর্মী। কিন্তু পরবর্তীতে আরও কিছু অনুসন্ধানের পর দেখা যায়, অফিসের নেটওয়ার্কে ঢোকার জন্য যে নিরাপত্তামূলক আরএসএস টোকেন ও পাসওয়ার্ডের প্রয়োজন হয় তা বেশ আগেই কুরিয়ার করে চীনে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৪০ বছর বয়সী এই প্রোগ্রামার। আর এই আরএসএস টোকেন ব্যবহার করেই চীনে তার হয়ে প্রোগ্রামাররা অফিসিয়াল নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও উপাত্ত ব্যবহার করে প্রোগ্রামিং কোড তৈরি করতেন। এ জন্য ওই ব্যক্তির মাসিক বেতনের মাত্র এক পঞ্চমাংশ পেতেন চীনের এই প্রোগ্রামাররা। অন্যদিকে নিজের কাজ অন্যকে দিয়ে করানো আসল প্রোগ্রামার সারাদিন তার অফিসের সময় ব্যয় করতেন অপ্রয়োজনীয় নানা ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে। কিন্তু গেল ক’বছর ধরে এই ভদ্র(!) লোক এতোটাই নিখুঁতভাবে তার এই ফাঁকি দেওয়ার কাজটি করে যাচ্ছিলেন যে তার ব্যক্তিগত ফাইলেও তার পারফর্মেন্সের মূল্যায়ন হিসেবে সবসময় অসাধারণ-ই লেখা থাকতো।
