চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতি নদীর পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। পানি শূন্য হয়ে নদীর তলা এখন বালুর চরে পরিণত হচ্ছে। ফলে নদী পাড়ের পাঁচটি বিলের ১০কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ। অনাবাদি হয়ে পড়ছে ফসলি জমি। কৃষকরা জানান, উজান থেকে নেমে আসা ইছামতি একটি একমুখি স্রোতের পাহাড়ি নদী। রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাউখালী ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে মিলিত হয় ইছামতি। ফলে প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের বালিতে ইছামতি নদীর তলদেশ ভরাট হচ্ছে। তলদেশের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। ফলে গত দু’দশক ধরে শীতের শুরু থেকে পানি শুকিয়ে ইছামতি নদী প্রায় মৃত হয়ে পড়ে। মুরাদনগর পৌর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা হোছনজ্জমা(৭৬) জানান, গত তিন দশক আগেও ইছামতি নদীর গভীরতা ছিল পর্যাপ্ত।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান জানান, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা ও চার ইউনিয়নের পাঁচ চরের ৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল উত্পাদন ইছামতি নদীর পানি সেচের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু গত দু’দশক ধরে ইছামতি নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানির অভাবে চরের ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। নদীর নাব্যতা বাড়ানোর বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেখার দায়িত্ব থাকলেও এ নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই।
পানি উন্নয়ন বোর্ড রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কার্যালয়ের উপ-প্রকৌশল কর্মকর্তা গিয়াসউদ্দিন বলেন, ইছামতি নদীর পানি দিয়ে শুধু সবজি নয়, গুমাই বিলের ধান চাষাবাদও নির্ভরশীল। কিন্তু এ নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় তিনটি শাখা নদীও মরে গেছে। নদী খননের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে একাধিক প্রতিবেদন পাঠালেও কোন সুরাহা মিলছে না বলে জানান তিনি।
