কমলগঞ্জের কালাছড়া বনাঞ্চল বিরাণ ভূমিতে পরিণত হচ্ছে

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১৮
কমলগঞ্জ উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের অধীনস্থ কালাছড়া বনাঞ্চল বিরান ভূমিতে পরিণত হচ্ছে। কতিপয় গাছ পাচারকারী চক্র প্রকাশ্যে বনাঞ্চলের মূল্যবান গাছগাছালি কেটে সাবাড় করছে। ফলে বনাঞ্চলটি বিরান ভূমিতে পরিণত হচ্ছে, বিলিন হচ্ছে বন্যপ্রাণী। গত শুক্রবার সরেজমিন কালাছড়া বনাঞ্চলের বাফার বাগানসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসযজ্ঞের এ চিত্র দেখা যায়। জানা যায়, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের (ওয়াইল্ড লাইফ) অধীনস্থ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পার্শ্ববর্তী কালাছড়া বনবিটের অধীনে ২৬৬০ একর বনভূমি রয়েছে। এই বনবিটের অধীনে কালাছড়া বাফার বাগান, কালাপুর, কাউতলী, বাম্বুর তেল, বেত বাগান রয়েছে। ওয়াইল্ড লাইফের অধীনস্থ কালাছড়া বনাঞ্চলের ব্যাপক এলাকায় গত কয়েক মাস আগেও বৃহদাকার গাছ গাছালি দেখা গেলেও এখন পাহাড়ি ঐ টিলায় গাছের সাক্ষি হয়ে রয়েছে শত শত গাছের গুড়ি। ভেড়াছড়া গ্রামের লোকজন জানান, প্রভাবশালীদের সহায়তায় ও বনবিট কর্মকর্তার যোগসাজশে স্থানীয় উপকারভোগী তাদের জন্য নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে কেটে নিয়ে যাচ্ছে ৫০/৬০ বছর বয়সী মূল্যবান এসব গাছ গাছালি। বনাঞ্চলের বিভিন্ন টিলায় সেগুন, আকাশমনি, ম্যানজিয়াম ও ইউক্যালিপটার্স জাতীয় বড় বড় গাছের সাথে এখন ছোট ছোট গাছও কেটে নেয়া হচ্ছে। ফলে গাছশূন্য হচ্ছে পাহাড়ি এসব টিলা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গাছ পাচারকারীরা দিনের বেলা বিকালে শ্রমিক লাগিয়ে গাছ কেটে নিচ্ছে। এতে শ্রমিকদের ফুট হিসাবে দুইশ, আড়াইশ টাকা হারে মজুরি দিচ্ছে। ট্রলি ও পিকআপ ভ্যানে করে অব্যাহতভাবে মূল্যবান বৃক্ষরাজি কেটে নেয়া হলেও দেখার কেউ নেই। সূত্র জানায়, বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের অনুগতরা ব্যাপকহারে গাছ পাচার করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হচ্ছে না। এভাবে বন উজাড় হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন। কালাছড়া বনবিট কর্মকর্তা লুত্ফুর রহমান বলেন, জনবল স্বল্পতার কারণে বিশাল এলাকায় বনভূমি সংরক্ষণে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে কালাছড়া বাফার বাগান এলাকায় উপকারভোগী ভিলেজাররাই কিছু গাছ কেটে নিচ্ছে। বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ শাখার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহবুবুর রহমান মোবাইল ফোনে ইত্তেফাককে বলেন, কালাছড়া বাফার বাগানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছ পাচারের বিষয়ে তিনি খোঁজ নেবেন।