দিনাজপুরে ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণের কাজ অর্ধসমাপ্ত

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১৯
কাজ শেষ করার নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর পেরিয়ে গেছে আরো তিনটি মাস। কিন্তু দিনাজপুরে ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণের কাজ এখনো অর্ধসমাপ্ত রয়ে গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের অক্টোবরে দিনাজপুরের মিটার গেজ রেলপথকে ডুয়েল গেজে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। দু’টি প্রকল্পে ভাগ করে দু’টি ঠিকাদারী সংস্থাকে কার্যাদেশ দেয়া হয় ঐ বছরেরই অক্টোবরে। ঠিকাদারী সংস্থা দু’টি হলো, তমা কনস্ট্রাকশন এন্ড কোঃ লিমিটেড এবং ম্যাক্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। প্রথম সংস্থাটিকে দেয়া হয়, পার্বতীপুর হতে বিরলের পাকুড়িয়া এবং কাঞ্চন হতে আখানগর পর্যন্ত রেলপথের কাজ। এ জন্য ব্যয় বরাদ্দ করা হয় ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সংস্থাটিকে দেয়া হয় আখানগর হতে পঞ্চগড় পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনের কাজ। এ জন্য ব্যয় বরাদ্দ করা হয় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। মেয়াদ সমাপ্তির সময় দেয়া হয় কার্যাদেশ প্রাপ্তির তারিখ হতে ২ বছর। বিস্তর গড়িমসির পর সংস্থা দু’টি কাজ শুরু করে ঐ বছরের ডিসেম্বরের শেষে। কাজের মধ্যে আছে, মাটি ভরাটের কাজ, কালভার্ট নির্মাণের কাজ এবং রেলপথ স্থাপনের কাজ। প্রকল্প দু’টির আওতায় রয়েছে ১৫০ টি ছোট বড় কালভার্ট। এ যাবত্ সমাপ্ত হয়েছে ৫৮টি কালভার্টের কাজ। বাকিগুলোর মধ্যে কয়েকটির নির্মাণ কাজ চলছে। বুয়েটকে প্রতারণা করে উন্নতমানের পাথর পাঠিয়ে টেস্টিং রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। বাস্তবে কালভার্ট নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে পঞ্চগড়ের নিম্নমানের পাথর। প্রমাণ হিসাবে উল্লেখ করা যায়, কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১০’র ডিসেম্বরে। অথচ বুয়েটের সনদপত্র সংগ্রহ করা হয় মার্চ ২০১১তে। নির্মাণ কাজে সিলেটের সিলিকা বালু ব্যবহারের শর্ত রয়েছে। অথচ ব্যবহার করা হচ্ছে স্থানীয় নদী হতে আহরিত বালু। এই পথে রয়েছে বৃহত্ পাঁচটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ। যা শর্ত মোতাবেক রেল কর্তৃপক্ষেরই সমাপ্ত করার কথা। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ এ যাবত্ ব্রিজ নির্মাণের জন্য কোন দরপত্রই আহ্বান করেননি। পর্যবেক্ষক মহলের মতে, রেলপথ স্থাপন, কালভার্ট নির্মাণ ইত্যাদি কাজে সময় লাগবে আরো এক বছর। ব্রিজ নির্মাণের কাজে আরো দুই বছর। সহজ হিসাবেই দেখা যাচ্ছে, ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হতে কমপক্ষে আরো তিন বছর সময় লাগবে।