রিতুর লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০১
সেগুনবাগিচায় নির্মমভাবে নিহত শিশু রিতুর লাশ নিয়ে গতকাল রবিবার বিকালে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। তারা ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। এদিকে রিতু হত্যার ঘটনায় পুলিশ গতকাল আরো তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলেন সেগুনবাগিচার ট্রপিক্যান টাওয়ারের ব্যবস্থাপক শাহাবুদ্দিন শাহাদত, নিরপত্তাকর্মী নুরুল ইসলাম ও ইস্কান্দার। এর আগে শনিবার আল নাসের এভিয়েশন সার্ভিসের কর্মচারি নজরুল ইসলাম, এয়ার পীস ট্রাভেল এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের পিয়ন সেলিম বিশ্বাস, হোয়াইট রোজ লিমিটেডের গোলাম মোস্তফাকে একই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়। শনিবার রাতে রিতুর মা নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গ থেকে রিতুর লাশ গ্রহণের পর তা সেগুনবাগিচায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে এক হূদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। রিতুর বড় বোন মিতু কাঁদতে কাঁদতে বলছিল, ‘রিতু আমার খেলার সাথী আছিল। দুই জন এক সাথে ঘুমাইতাম। ইস্কুলে যাইতাম। মায়ে ভাত রানতো। রিতু হেইডা অফিসের মানুষগো খাওয়াইতো। ওরা ক্যান আমার বোনরে মারল?’ এক পর্যায়ে এলাকাবাসী লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। তারা ঘাতকদের বিচারের দাবিতে শ্লোগান দেয়। অন্যদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি রিতু হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজির উদ্দিন বলেন, ‘রিতু হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রকৃত খুনি কে-তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তদন্তের এ পর্যায়ে এসে ট্রপিক্যান ভবনের চতুর্থ তলার অফিসগুলোর লোকজনই এ খুনে জড়িত বলে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।’ গতকাল সকালে সেগুনবাগিচার ট্রপিক্যান হাউজের সামনে যেতেই চোখে পড়ে মানুষের জটলা। সিঁড়ি বেয়ে চার তলায় উঠতেই উত্কট গন্ধ। সিঁড়ির বাম পাশের বাথরুমের মেঝেতে এখনও লেগে আছে শিশু রিতুর রক্ত। ট্রপিক্যান টাওয়ারের চতুর্থ তলায় ৯টি অফিস রয়েছে। সেগুলো হলো ক্রিসেন্ট ডেভেলপার, এয়ার পিস টুরস অ্যান্ড ট্রাভেল, জয়ধ্বনি কমিউনিকেশন, ঢালী ওভারসিজ, এয়ার বন্ড ট্রাভেলস, হোয়াইট রোজ ইন্টারন্যাশনাল, সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং, আল নাসের এভিয়েশন এবং এম এইচ ইন্টারন্যাশনাল। নয়টি অফিসের জন্য চারটি বাথরুম। এর মধ্যে দুটি বাথরুম সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও হোয়াইট রোজ ট্রাভেলস অফিসের ভেতরে। এ দুটি বাথরুম সংশ্লিষ্ট অফিসের লোকজন ছাড়া বাইরের কেউ ব্যবহার করে না। এর বাইরে অপর দুটি বাথরুম ব্যবহার করেন বাকি সাতটি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এরমধ্যে রিতার লাশ উদ্ধার হয় যে বাথরুম থেকে সেটির চাবি থাকে সাতটি অফিসের মালিক ও কর্মকর্তার কাছে। প্রতিটি বাথরুম আমেনা ও রাশেদা নামে দুই ঝাড়ুদার নিয়মিত পরিষ্কার করেন। আমেনা ইত্তেফাককে বলেন, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি বাথরুমগুলো পরিষ্কার করেছেন। ওই সময়ের মধ্যে সেখানে কোন লাশ পাননি তিনি। শুক্রবার তার সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। শনিবার সকালে এসে বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে উত্কট দুর্গন্ধ পান। এরপর তিনি বিষয়টি অন্যদের জানান। তবে রিতুর মা নূরজাহান বেগম দাবি করেছেন, গত সোমবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে রিতু টিফিন বাটিতে চতুর্থ তলার বিভিন্ন অফিসে ভাত-তরকারি দিয়ে আসে। ওইদিন বিকাল ৫টার দিকে রিতুকে বাটিগুলো আনতে পাঠান। কিন্তু রিতু আর ফেরেনি। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে এলাকায় মাইকিং ও থানায় জিডি করেন। এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রিতুকে সোমবার চার তলার কোন একটি কক্ষে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর লাশটি বৃহস্পতিবার রাতে বাথরুমে রেখে দেয়া হয়। এ কারণে চতুর্থ তলার অফিসগুলোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কেউই সন্দেহের বাইরে নয়। উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুরে ট্রপিক্যান টাওয়ারের চতুর্থ তলার একটি বাথরুম থেকে শিশু রিতুর লাশ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রিতুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।