মধুকবির জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ও মেলা উদ্বোধন আজ

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০২
আজ সোমবার বাংলা সাহিত্যের অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক আধুনিক বাংলা কাব্যের রূপকার মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৮৯তম জন্মবার্ষিকী ও সপ্তাহব্যাপী মধুমেলার উদ্বোধন। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। মেলা উপলক্ষে কবির জন্মস্থান যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে সাগরদাঁড়ির বিখ্যাত দত্ত বাড়ির আঙ্গিনায় সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা চলবে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। এসএসসি পরীক্ষার কারণে গতবারের ন্যায় এবারো মেলা চার দিন এগিয়ে আনা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ব বৃহত্ এই মেলায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প, কৃষি ও লোকজ সামগ্রীর সমাহারসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। কবির জন্মজয়ন্তী ও মধুমেলা উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও সেলফোন বাংলালিংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ৭ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা আজ বিকাল ৩টায় জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জন্মজয়ন্তী ও মেলা উদ্বোধন করবেন তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ । এদিন বিশেষ অতিথি থাকবেন যশোরের ৫ জন সংসদ সদস্য যথাক্রমে হুইপ অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাব এমপি, এড. খান টিপু সুলতান এমপি, খালেদুর রহমান টিটো এমপি, রনজিত্ কুমার রায় এমপি, শেখ আফিলউদ্দীন এমপি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি, যশোরের পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র, যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার এইচ এম মুজাহারুল ইসলাম মন্টু, মোবাইল ফোন বাংলালিংকের পিআর এন্ড কমিউনিকেশন এ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার শিবলী সাদিক, কেশবপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমানসহ জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। মধুমেলা উপলক্ষে সাগরদাঁড়িতে বসেছে যাত্রা, সার্কাস, জাদু প্রদর্শনী, ভ্যারাইটি শো, বিচিত্রা অনুষ্ঠান, ইঞ্জিন ট্রেন, মৃত্যুকূপ ও বিসিকের স্টল। প্রতিদিন কবির সৃষ্টি, সাহিত্য ও জীবনীর উপর বিষয় ভিত্তিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি-সাহিত্যিকগণ। এ ছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় মধুমঞ্চে দেশের বরেণ্য খ্যাতিমান শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন। ছেলেবেলায় নিজ গ্রামের এক পাঠশালায় মাওলানা লুত্ফর রহমানের কাছে শিশু মধুসূদন তার শিক্ষা জীবন শুরু করেন; কিন্তু গাঁয়ের পাঠশালায় তিনি বেশি দিন শিক্ষা লাভ করতে পারেননি। পিতা রাজনারায়ণ দত্ত কর্মের জন্য পরিবার নিয়ে কলকাতার খিদিরপুরে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে চলাফেরার এক পর্যায়ে মধুসূদন পর্যায়ক্রমে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। শেষ জীবনে ভয়ঙ্করভাবে অর্থাভাব, ঋণগ্রস্ত ও অসুস্থতায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। এরপর সকল চাওয়া পাওয়াসহ সকল কিছুর মায়া ত্যাগ করে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতার এক হাসপাতালে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। যশোর জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত মধুমেলাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল জলিল জানান, অতীতের ন্যায় মেলাকে নিয়ে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না।