টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যার প্রতিবাদে গতকাল রবিবার টাঙ্গাইল শহরে অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়েছে। শহরের সব দোকান বন্ধ ছিল। কোন যানবাহন চলাচল করেনি। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এদিকে এ হত্যাকাণ্ডে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় পার্টি (জেপি)।
আমাদের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান- গতকাল বেলা পৌনে বারটার দিকে ছাত্রলীগের একটি মিছিল শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে আশিকপুরের দিকে গেলে আমিন বাজারের সামনে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে মিছিলকারীদের দোকান বন্ধ করা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায় ব্যবসায়ীরা জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাদের বাপনের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। তখন নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। নেতারা বাপনকে গুরুতর অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে ছাত্রলীগের আরো নেতা-কর্মী সেখানে গিয়ে কাঁচাবাজারের কয়েকটি দোকান ভাংচুর করেন। আব্দুল কাদের বাপনকে জরুরি অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে ফারুক হত্যার ঘটনায় গতকালও কোন মামলা করা হয়নি। তিনি রাজনৈতিক কারণে খুন হয়েছেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, গতকাল রবিবার দুপুর পর্যন্ত থানায় এ ব্যাপারে কোনো মামলা হয়নি। হত্যার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে জাতীয় পার্টি (জেপি)’র অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকী, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু সাঈদ খান এবং ভাইস চেয়ারম্যান আজিজ বাঙাল টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যাকাণ্ডে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে জেপি নেতৃবৃন্দ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের দাবি জানান। বিবৃতিতে জেপি নেতৃদ্বয় মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোক-সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইল আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ নিজ বাসার কাছে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন।
