আবারো বাড়ল বাস ভাড়া

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৬
আবারো বাড়লো বাস ভাড়া। সমপ্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গতকাল রবিবার বাস মালিকদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সরকার নতুন করে বাস ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। বর্ধিত ভাড়া প্রযোজ্য হবে কেবলমাত্র আন্তঃজেলা রুটসমূহে ও দূরপাল্লায় চলাচলকারী ডিজেলচালিত বাসের ক্ষেত্রে। এসব বাসে প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি ১০ পয়সা হারে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাত্ বর্তমান প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া এক টাকা ৩৫ পয়সার স্থলে এক টাকা ৪৫ পয়সা হবে, যা বর্তমান ভাড়ার তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। যদিও এ পর্যায়ে ভাড়া বৃদ্ধি সম্পর্কিত কস্টিং কমিটি প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি ২৩ পয়সা হারে ভাড়া বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। অবশেষে গতকাল ১০ পয়সা হারে ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়ার পর পরিবহন মালিকরা বলেছেন, এতে পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবুও তারা সিদ্ধান্তটি মেনে নিয়েছেন। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ১ জানুয়ারী ডিজেল চালিত বাসের ভাড়া যাত্রীপ্রতি ১৫ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে গতকাল দুপুরে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে কস্টিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকেই বিস্তারিত আলোচনা-পর্যালোচনার পর ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার কস্টিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন কমিটির সদস্যরা প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি ২৩ পয়সা হারে ভাড়া বৃদ্ধির সুপারিশ করেন। কিন্তু মন্ত্রী তাতে সম্মত না হলে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব মন্ত্রীকেই দেয়া হয়। সে অনুযায়ী গতকালের বৈঠকে তিনি ১০ পয়সা হারে ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। গতকালের বৈঠক শেষে যোগাযোগমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, নতুন এই ভাড়া মঙ্গলবার (আগামীকাল) থেকে কার্যকর হচ্ছে। তবে ভাড়া বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী গণপরিবহনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। প্রসঙ্গত, সরকার গত ৩ জানুয়ারি পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে ৫ টাকা করে এবং ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৭ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। নতুন দর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ৬৮ টাকা, কেরোসিন ৬৮ টাকা, অকটেন ৯৯ টাকা এবং পেট্রোল ৯৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর তাত্ক্ষণিকভাবে গণপরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ না হলেও সারাদেশে বাসযাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু হয়ে যায়। এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে রিপোর্ট হলে সরকার ভাড়া পুনঃনির্ধারণের জন্য কস্টিং কমিটির বৈঠক আহবান করে। গতকাল বিকালে ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে যোগাযোগমন্ত্রী আরও বলেন, যাত্রীসাধারণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপের কথা মাথায় রেখেই ভারসাম্যপূর্ণ হারে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই বর্ধিত ভাড়া যাত্রীরাও সহ্য করতে পারবেন এবং পরিবহন মালিকদেরও ততোটা ক্ষতি হবে না। অবশ্য ভাড়া বৃদ্ধির কারণে সমালোচনার ঝুঁকির কথাও মাথায় রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। সরকারিভাবে ভাড়া বৃদ্ধির আগেই অনেক পরিবহনে ভাড়া বাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, আশা করি মঙ্গলবার সকাল থেকে নতুন নির্ধারিত হারেই ভাড়া আদায় করা হবে। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ খান সাংবাদিকদের বলেন, এ পর্যায়ে মাত্র ১০ পয়সা হারে ভাড়া বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্যের তুলনায় এই ভাড়া অপর্যাপ্ত। তারপরও বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে পরিবহন মালিকরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, কস্টিং কমিটি ও বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান খান, সোহাগ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক তালুকদার সোহেল, শ্যামলী পরিবহনের স্বত্বাধিকারী রমেশ চন্দ্র ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এর আগে ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি দূরপাল্লার (আন্তঃজেলা) বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা করে বাড়িয়ে ১ টাকা ৩৫ পয়সা করা হয়। তারও আগে ২০১১ সালের বিভিন্ন পর্যায়ে মোট চার দফায় জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষপটে বাস ভাড়াও দফায় দফায় মোট ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছিল।