সারাদেশে গতকাল রবিবার থেকে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট চলছে। সকাল ৬টায় ধর্মঘট শুরু হয়েছে। কোথাও বিক্রি হয়নি জ্বালানি তেল। এতে করে গাড়ি চলাচলে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। জ্বালানি তেলের বিক্রয় কমিশন বৃদ্ধিসহ নয় দফা দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে। দাবি না মানা পর্যন্ত এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে আহ্বান-কারীরা জানিয়েছে। পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের সাথে আলোচনার জন্য সরকার বা বিপিসির পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব আসেনি। আলোচনার মাধ্যমে আমাদের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলতে থাকবে। এদিকে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকির হোসেন নয়নের স্বাক্ষরে পাঠানো এক বিবৃতি ধর্মঘট সমর্থন করে বলেন, দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে উদ্ভূত অচল অবস্থার নিরসন করা হোক। নতুবা আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।
সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে—কোথাও তেল বিক্রি হচ্ছে না। যারাই তেল নিতে যাচ্ছেন তারাই ফিরে আসছেন। সারাদেশের মধ্যে শুধু রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে সরকারি একটি স্টেশন থেকে তেল বিক্রি করতে দেখা গেছে। মতিঝিলের রূপালী ফিলিং স্টেশনে গতকাল বিকাল ৩টার দিকে গেলে দেখা যায়, কাউন্টারে তালা দিয়ে সেখানের কর্মরত ব্যক্তিরা বসে আছেন। এ সময় সোহাগ নামে একজন মটর সাইকেল আরোহী এলে তাকে তেল দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। এই পরিস্থিতি গতকাল প্রায় সব পাম্পেই ছিল।
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, ধর্মঘটের কারণে গতকাল কোনো পেট্রোল পাম্প মালিক বা ডিলাররা তেল উত্তোলন করেনি। একইভাবে কোনো ট্যাংকলরি চালকও তাদের গাড়ি বের করেননি। ৯ দফা দাবি মেনে নিতে দফায় দফায় আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সভা করেছে।
সিদ্ধিরগঞ্জের বার্মা স্ট্যান্ডে পদ্মা অয়েল ডিপোর ফটকের সামনে গতকাল দিনভর তারা বিক্ষোভ মিছিল ও সভা করে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ডিস্টিবিউটর এবং ট্যাংকলরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের পদ্মা শাখার নেতৃবৃৃন্দ এই বিক্ষোভ সভার আয়োজন করে। বিক্ষোভ সভায় বক্তারা বলেন, আমাদের দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ধর্মঘট চালিয়ে যাব। সিদ্ধিরগঞ্জের এসও রোড এলাকায় মেঘনা তেল ডিপো এবং পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে কেউ কোনো প্রকার তেল উত্তোলন করেনি বলে ডিপো সূত্রে জানা গেছে।
বরিশাল অফিস জানায়, ১১টি পেট্রোল পাম্প এবং ২৫ জন খুচরা তেলের ডিলার গতকাল সকাল ৬টা থেকে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে। এ ধর্মঘটের ফলে অভ্যন্তরীণ রুটে বাসসহ অন্যান্য যানবাহনের তেল না পেয়ে যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
খুলনা অফিস জানায়, খুলনা মহানগর ও জেলার ২৭টি পাম্পে গতকাল সকাল থেকেই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলে খুলনা জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানিয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মুরাদুজ্জামান বলেন, কোনো পাম্প থেকে এক ফোঁটা তেলও বিক্রি হচ্ছে না।
নগরীর কয়েকটি পেট্রোল পাম্প সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, লম্বা রশি দিয়ে পাম্পের রাস্তার প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর পাম্পগুলোর উপর কালোকাপড় দিয়ে মোড়ানো হয়েছে ও পাম্পের সামনে লাগানো হয়েছে ৯ দফা দাবির ব্যানার। কোনো লেনদেনও চলছে না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, আশুগঞ্জে গতকাল সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। এতে করে আশুগঞ্জ পদ্মাওয়েল কোম্পানি ডিপো থেকে ট্যাংকলরি দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও গাজীপুর জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও আশুগঞ্জের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ রয়েছে। পদ্মা ওয়েল কোম্পানির আশুগঞ্জ ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব বলেন, পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের ধর্মঘটের কারণে ৭ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হারুন মোল্লা বলেন, দাবি না মানা হলে ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
