এমপির এপিএসের হাতে নির্যাতিতা মেয়েটিকে আজ কোর্টে হাজিরের নির্দেশ

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৮
গাজীপুরের কাপাসিয়ার সংসদ সদস্যের কথিত এপিএস সাইফুল হাকিম মোল্লা ওরফে কাজল মোল্লার নির্যাতনের শিকার গৃহপরিচারিকা পাপিয়াকে (ছদ্মনাম) আজ সোমবার সকালে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পুলিশের আইজি, গাজীপুরের এসপি ও কাপাসিয়ার ওসিকে এ নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে। গতকাল রবিবার মহিলা আইনজীবী সমিতির রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের ডিভিশন বেঞ্চ এ নির্দেশ দেয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ ও এডভোকেট সালমা আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মো. মোখলেছুর রহমান। হাইকোর্ট আবেদনকারীদের কাছে জানতে চান, মেয়েটি এখন কোথায় আছে? জবাবে সালমা আলী বলেন, মেয়েটি কোথায় আছে জানতে আমরা কাপাসিয়ায় গিয়েছিলাম। স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রশাসনের কাছে কোনো তথ্য পাইনি। এক পর্যায়ে থানায় গিয়েছি জিডি করার জন্য। আমাদের পক্ষ থেকে এডভোকেট সোহেল রানা আকন্দ থানায় যান। থানায় বসে জিডি লেখা হয়। থানার ওসি ও সেকেন্ড অফিসার জিডি তালিকাভুক্ত না করে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে আধাঘণ্টা বসিয়ে রাখেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শহীদুল ইসলাম থানায় হাজির হন এবং সোহেলকে ধমক দেন। তিনি সোহেলকে হুমকি দিয়ে বলেন: কার অনুমতি নিয়ে জিডি করতে এসেছো। এরপর অবস্থা বেগতিক দেখে ভয়ে ফিরে আসেন সোহেল।’ শুনানি শেষে আদালত তাকে হাজিরের নির্দেশ দেন। গৃহকর্মী পুলিশ হেফাজতে কাপাসিয়া সংবাদদাতা জানান, গাজীপুর-৪ কাপাসিয়া আসনের সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমির কথিত এপিএস কাজল মোল্লা তার বাসার কাজের মেয়েকে নির্যাতন করার অভিযোগে হাইকোর্টের রুল জারি করার পর উপজেলা প্রশাসন উক্ত গৃহকর্মীকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। তাকে কাপাসিয়া থানায় রাখা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মোঃ নুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেন, কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন আলী ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলওয়ার হোসেন গৃহকর্মীর বাড়িতে গিয়ে একজন অভিভাবকসহ তাকে থানায় নিয়ে আসে। অভিযোগ রয়েছে, রিমির কথিত এপিএস কাজল মোল্ল¬া তার ঢাকার বাসার কাপাসিয়া উপজেলার বড়টেক গ্রামের গৃহকর্মীকে নির্যাতন করে। গত ১৭ জানুয়ারি গৃহকর্মীর পরিবারের পক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে তার উপর কোন নির্যাতন হয়নি বলে দাবি করেছিল।