বেড়ানো

সোনারগাঁওয়ের লোকজ উত্সব

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:১৮
লেখা ও ছবি মুস্তাফিজ মামুন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের হাতে গড়া সোনারগাঁওয়ের লোককারুশিল্প ফাউন্ডেশন চত্বরে চলছে মাসব্যাপী লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উত্সব। ঢাকা থেকে যেকোনো দিন ঘুরে আসতে পারেন মেলা প্রাঙ্গণ থেকে। বাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ সংস্কৃতির স্বাদ পাওয়া যাবে মেলায়। এ ছাড়া দেখে আসতে পারেন পানাম নগরও। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের হাতে গড়া সোনারগাঁওয়ের লোককারুশিল্প ফাউন্ডেশন চত্বরে চলছে মাসব্যাপী লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উত্সব। ঢাকা থেকে যেকোনো দিন ঘুরে আসতে পারেন মেলা প্রাঙ্গণ থেকে। বাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ সংস্কৃতির স্বাদ পাওয়া যাবে মেলায়। এ ছাড়া দেখে আসতে পারেন পানাম নগরও। লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উত্সব ২০১৩ লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উত্সব জমে উঠেছে পুরোপুরি। এ মাসের ১৪ তারিখে শুরু হয়েছে এ মেলা। শেষ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের বিস্তীর্ণ এলাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কারুশিল্পীরা পসরা সাজিয়ে বসছে গ্রামবাংলার নানা ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম— সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী কাঠের পুতুল আর কারুশিল্প, সোনারগাঁওয়ের আরেক ঐতিহ্য জামদানি শাড়ি, নরসিংদীর পাটের শিকা, রংপুরের শতরঞ্জি, ঝিনাইদহের সোলা শিল্প, দেশের বিভিন্ন স্থানের আদিবাসীদের তৈরি তাঁতের কাপড়, রাজশাহীর শখের হাঁড়ি ছাড়াও মেলায় এসেছে নকশী পাখা, পটচিত্র, টেপা পুতুল, তামা ও কাঁসার শিল্পকর্মসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মৃত্ শিল্প। আরও আছে মুড়ি-মুড়কি, মিঠাই, মুড়ালি, পিঠে-পুলিসহ নানান গ্রামীণ খাবারের আয়োজন। মেলা প্রাঙ্গণে দেশের হারিয়ে যাওয়া নানান গ্রামীণ খেলা যেমন কাবাডি, বৌচি, দাড়িয়াবান্ধা, মোরগ লড়াই ইত্যাদির আয়োজনও বেশ মজার। বাংলার হারাতে বসা ঐতিহ্য পুতুল নাচও স্থান পেয়েছে মেলায়। এ ছাড়া মেলার অন্যতম আকর্ষণ পালাগান, বাউল গান, জারি, সারি, মুর্শিদী, মারফতি, লালন, হাসনের গানসহ লোকসংগীতের বিশাল আয়োজন। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত অবধি মেলার মঞ্চে চলে এসব গানের আসর। বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর মেলায় ঘোরা ফেরার ফাঁকে দেখে নিতে পারেন লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনও। ফাউন্ডেশনের মূল আকর্ষণ বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। এগারোটি গ্যালারিতে এ জাদুঘরে প্রায় চার হাজার তিনশ’টি নিদর্শন সংরক্ষিত আছে। ১নং গ্যালারিতে আছে কাঠ খোদাই ও কারুশিল্প, ২নং গ্যালারিতে বাংলার গ্রামীণ জীবনযাত্রার চিত্র। ৩নং গ্যালারিটি সাজানো হয়েছে পটচিত্র ও মুখোশ দিয়ে। ৪নং গ্যালারি দেশের বিভিন্ন এলাকার নৌকা, ৫নং গ্যালারিতে রয়েছে বাংলাদেশের আদিবাসী, ৬নং গ্যালারিতে আছে লোকজ বাদ্যযন্ত্র ও বাংলার পোড়ামাটির শিল্প। ৭ ও ৮নং গ্যালারিতে আছে যথাক্রমে লোহার তৈরি নিদর্শন ও তামা, কাঁসা, পিতলের তৈজসপত্র। ৯, ১০ ও ১১নং গ্যালারিতে আছে লোকজ অলঙ্কার, বাঁশ, বেত ও শীতল পাটি। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ফাউন্ডেশনের সময়সূচি হলো শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। বুধ ও বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক বন্ধ। এ ছাড়া লোককারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ভেতরে আছে তিনটি বনভোজন কেন্দ্র। ফাউন্ডেশনের ভেতরের হ্রদে নৌ ভ্রমণেরও ব্যবস্থা আছে দর্শনার্থীদের জন্য। পানামনগর ও অন্যান্য লোকজ মেলা ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন ঘুরে হাতে সময় থাকলে দেখে নিন প্রাচীন শহর পানামনগর। বাংলার মুসলিম শাসকদের অধীনে পূর্ববঙ্গের একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল এটি। প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকেই সোনারগাঁও নামের উদ্ভব। ত্রয়োদশ শতাব্দীর স্থানীয় হিন্দু রাজা দনুজমাধব দশরথদেব বিক্রমপুর থেকে সুবর্ণগ্রামে তার রাজধানী স্থানান্তর করেন এ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। বঙ্গ অঞ্চলে মুসলমানদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে ১৬১০ সালে ঢাকা নগরের অভ্যুদয়ের আগ পর্যন্ত সোনারগাঁও ছিল দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গের প্রশাসনিক কেন্দ্র। ঢাকায় মোগল রাজধানী স্থাপনের পর থেকে সোনারগাঁওয়ের পতন শুরু হয়। সোনারগাঁও এলাকার প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো খাসনগর দিঘি, দুলালপুরের নীলকুঠি, গোয়ালদি শাহী মসজিদ, আমিনপুর মঠ, দামোদরদি মঠ, পানাম নগরের আবাসিক ভবন, বড় সরদার বাড়ি প্রভৃতি। পানাম এলাকায় এখনও টিকে আছে মোগল আমলে নির্মিত ইটের তৈরি তিনটি সেতু ‘পানাম সেতু’, ‘দুলালপুর পুল’ এবং ‘পানামনগর সেতু’। দুলালপুর সেতুর আগে এ পাকা সড়কের পূর্ব পাশেই পানাম নগরের অবস্থান। প্রায় পাঁচ মিটার প্রশস্ত এবং ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি সড়কের দুইপাশে সুরম্য কিছু স্থাপনা নিয়ে পানামনগর গড়ে ওঠে। সড়কের উত্তর পাশে ২১টি এবং দক্ষিণ পাশে ৩১টি, মোট ৫২টি বাড়ি এই নগরের অন্যতম অকর্ষণ। সংস্কারের অভাবে আর অদক্ষ সংস্কারের কারণে বাড়িগুলোর এখন বেহাল দশা। কীভাবে যাবেন ঢাকার গুলিস্তান বোরাক পরিবহন, সোনারগাঁও পরিবহন ইত্যাদি বাসে এসে নামতে হবে মোগড়াপাড়া বাস স্টেশনে। ভাড়া ৪০-৫০ টাকা। এ ছাড়া একই জায়গা থেকে দাউদকান্দি কিংবা মেঘনাগামী যেকোনো বাসেও মোগড়াপাড়া আসা যায়। মোগড়াপাড়া থেকে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের রিকশা ভাড়া ২০-২৫ টাকা।