শীতের হাওয়া বইতে শুরু করেছে, এই শীত মৌসুমেই সিল্কের শাড়ির চল বেশি। কিন্তু যত্ন করে না রাখতে পারলে আপনার শখের শাড়িটি কিন্তু নষ্ট হয়ে যেতে পারে অল্প কিছুদিনেই। সিল্কের শাড়ি ভালো রাখার কিছু পরামর্শ জানাচ্ছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
সিল্কের শাড়ি ড্রাই ক্লিন করতে পারলেই ভালো। বিশেষ করে পানিতে ক্লোরিনের মাত্রা বেশি থাকলে সিল্কের রং হলুদ হয়ে যেতে পারে।
বেশিক্ষণ সিল্কের শাড়ি পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না। একবার সাবান পানিতে ডুবিয়েই সঙ্গে সঙ্গে তুলে ফেলবেন। সিল্কের শাড়ি খুব জোরে কাচবেন না বা ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করবেন না। শুকনো করারা সময় হালকা করে মুড়িয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। খুব জোরে নিংড়াবেন না।
কাচার পর ভালো করে সিল্কের শাড়ি ধুয়ে নিন। কারণ, ডিটারজেন্ট সিল্কের মসৃণভাব নষ্ট করে দিতে পারে। তারপর ২ লিটার পানিতে ১/৪ কাপ ভিনিগার মিশিয়ে ওই মিশ্রণে শাড়িটি একবার ধুয়ে নিন। এতে শাড়িতে কোনো ভিনিগার লেগে থাকলে উঠে যাবে।
সিল্কের শাড়িতে কোনোভাবে দাগ লেগে গেলে তার জন্য ড্রাই ক্লিনিং করুন। বাড়িতে দাগ তুলতে চাইলে পানি ব্যবহার করে ঘষাঘষি করবেন না। এতে দাগ স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। ভালো মানের রিমুভার ব্যবহার করতে পারেন। তা ছাড়া সাদা পেট্রোল ব্যবহার করলেও উপকার পাবেন।
এভাবে পরিষ্কার করার পর সাথে সাথে ইস্ত্রি করে ফেলুন। এতে দাগের চারিদিকের অংশ নষ্ট হবে না।
তেল-মসলাযুক্ত কোনো দাগের ক্ষেত্রে দাগের উপর সঙ্গে সঙ্গে পাউডার ছিটিয়ে দিন। তারপর ব্রাশ দিয়ে অতিরিক্ত পাউডার ঝেড়ে ঠান্ডা বা হালকা গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।
দাগ ওঠানোর জন্য কখনোই গরম পানি ব্যবহার করবেন না, এতে দাগ আরও বসে যাবে। তারপর বড় তোয়ালে দিয়ে ধীরে ধীরে শাড়ি মুছে নিন।
কড়া রোদে কাপড় শুকাতে দিবেন না। তাহলে কাপড়ের রং নষ্ট হয়ে যাবে।
লন্ড্রিতে সিল্কের শাড়ি ইস্ত্রি করতে দিলে সবচেয়ে ভালো হয়। বাড়িতে ইস্ত্রি করতে চাইলে অল্প ভেজা থাকতে থাকতেই ইস্ত্রি করুন। শাড়ির উলটো দিকে আয়রন করুন। শাড়ির পাড় বা আঁচলে মসলিন কাপড় বসিয়ে তারপর ইস্ত্রি করুন।
প্লাস্টিকের প্যাকেটে সিল্কের শাড়ি স্টোর করবেন না। শাড়িতে ময়েশ্চার ধরে যাবে।
মসলিনের কাপড়ে মুড়ে শাড়ি অন্ধকারে রাখুন। স্যাঁতস্যাঁতে বা পোকামাকড় ভর্তি জায়গায় শাড়ি রাখবেন না।
ভারী কাজ করা সিল্কের শাড়ি হ্যাঙ্গারে না ঝুলিয়ে সোজা করে ভাঁজ করে রাখুন।
সিল্কের শাড়ির মধ্যে ন্যাপথলিন বল রাখবেন না। এতে শাড়িতে ন্যাপথলিনের গন্ধ বসে যেতে পারে। এর পরিবর্তে দারুচিনি বা লবঙ্গ ব্যবহার করুন।
মাঝে মাঝে শাড়ির ভাঁজ বদলে নতুন করে ভাঁজ করে রাখুন। বছরে অন্তত একবার শাড়ি খোলা হাওয়ায় মেলে রাখুন।
