বাজার-সদাই

ক্যামেরার বাজার-সদাই

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:১৯
ফটোগ্রাফি এখন শুধু প্রফেশনাল পর্যায়ে নেই, আমাদের শখের জায়গাটিও দখল করে নিয়েছে। আগে ছবি তুলতে প্রয়োজন হতো ফিল্মের, তাতে ছিল অনেক সীমাবদ্ধতা। কিন্তু ডিজিটাল ক্যামেরা আসায়, ছবি তুলতে এখন আর ফিল্ম শেষ হয়ে যাওয়ার চিন্তা মাথায় না রাখলেও চলে। হাতের ছোটখাটো আধুনিক ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে আপনি এখন অনায়াসেই তুলে ফেলতে পারেন আপনার মনের মতো ছবি। বিভিন্ন আঙ্গিকের, বিভিন্ন মাত্রার। সহজে বহন উপযোগী ও ফিল্মের ঝামেলা না থাকার কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে ডিজিটাল ক্যামেরা এ দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। খুব দ্রুতই ফিল্ম ক্যামেরা হারিয়ে যেতে শুরু করেছে। এ ধরনের ক্যামেরাও এখন আর দুষ্প্রাপ্য ও দামি কোনো বিষয় নয়। মানুষের ইলেকট্রনিক পণ্যাদি ক্রয়ের তালিকায় শীর্ষ স্থানটিই এই মুহূর্তে দখল করে আছে ডিজিটাল ক্যামেরা। কিন্তু এই ক্যামেরা কেনার সময় কোন কোন বিষয়গুলোর প্রতি আমাদের বেশি মনোযোগী হতে হবে—সে বিষয়ে অনেকের তেমন ধারণা নেই। আসুন, আমরা দ্রুত চোখ বুলিয়ে নিই, ডিজিটাল ক্যামেরা ক্রয়ের ক্ষেত্রে আমাদের কোন বিষয়গুলো নজরে রাখা উচিত বা কোন বিষয়গুলো দেখে, পরখ করে একটি ডিজিটাল ক্যামেরা কেনা উচিত। প্রথমেই যেটা বিচার্য বিষয় তা হচ্ছে—আপনি কোন উদ্দেশ্যে ক্যামেরা কিনছেন। আপনি কি শখের ফটোগ্রাফার হতে চাইছেন, ঘরে-বাইরে কিংবা ভ্রমণে গিয়ে কিছু ছবি তোলার জন্য। নাকি আপনি প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার, বাণিজ্যিকভাবে উচ্চমানের ছবি তুলতে চান, নাকি এই দুইয়ের মাঝামাঝি আছেন আপনি। এসবের উপরে ভিত্তি করে প্রথমেই বিচার করে নিন আপনি পয়েন্ট অ্যান্ড শুট ক্যামেরা নেবেন, নাকি প্রফেশনাল ক্যামেরা নেবেন, নাকি এই দুইয়ের মাঝামাঝি কোনো মডেল নেবেন। পয়েন্ট অ্যান্ড শুট ক্যামেরাগুলো ছোট, সাধারণত কমপ্যাক্ট মডেলের হয়। দামও খুব বেশি হয় না। যেকোনো ক্যামেরার দোকানে, ইলেক্ট্রনিক্স শোরুমে, এমনকি কম্পিউটার সামগ্রী পাওয়া যায় এমন দোকানেও এসব ক্যামেরা পাবেন। দেখতে ছোটখাটো হলেও এইগুলো খেলনা নয়, তাই ব্যবহার করতেও লজ্জা পাওয়ার কোনোই কারণ নেই। আকারে ছোট হওয়ায় খুব সহজেই বহন করা যায়, পকেটে অথবা মেয়েদের ভ্যানিটি ব্যাগে করে। সে কারণে এই ধরনের ক্যামেরার গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা বেশি। আর ডিজিটাল ক্যামেরা কিনতে যে জিনিসগুলো দেখে নিতে হবে: মেগাপিক্সেল আমাদের সবার একটা সাধারণ ধারণা রয়েছে, একটি ডিজিটাল ক্যামেরার মেগাপিক্সেল যত বেশি হবে, ছবির মানও তত ভালো হবে। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মেগাপিক্সেল কেবল ছবির আকার নির্ধারণ করে। প্রতিটি ডিজিটাল ক্যামেরার প্রায় ৮০ লাখ পিক্সেল থাকে। একটি ৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দিয়ে ৪ গুণ ৬ ইঞ্চি আকারের একটি ছবি তোলা যাবে। ৮ মেগাপিক্সেল দিয়ে তোলা যাবে ১১ গুণ ১৭ ইঞ্চি আকারের ছবি। ১০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় ফুটে উঠবে ১৩ গুণ ১৯ ইঞ্চি আকারের ছবি। সেন্সর ক্যামেরার ভেতরের একটি ছোট্ট চিপ বিদ্যমান। এই চিপ ছবি রেকর্ডে সহায়তা করে। একে বলা হয় ইমেজ সেন্সর। এই ইমেজ সেন্সরের ওপরই আপনার তোলা ছবির মান নির্ভর করছে। ইমেজ সেন্সরের আকার যত বড় হবে, ছবির মান তত ভালো হবে। ডিজিটাল ক্যামেরার দুনিয়ায় সাধারণত দুই ধরনের ইমেজ সেন্সর দেখা যায়। একটি সিসিডি, অপরটি সিএমওএস। সিএমওএস সেন্সরের সাধারণত কম ব্যাটারি খরচ করায়। এর গতিও সিসিডির চেয়ে অনেক বেশি। জুম ক্যামেরাগুলোর সাধারণ দুই ধরনের জুম থাকে। একটি অপটিক্যাল ও অপরটি ডিজিটাল। এই দুই ধরনের জুমের মধ্যে অপটিক্যাল জুম বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ লেন্সের ফোকাল লেংথ পরিবর্তন করে সাবজেক্টকে অনেক কাছে নিয়ে আসে। এতে ছবির মান অটুট থাকে। ডিজিটাল জুম সাধারণত সফটওয়্যার-নিয়ন্ত্রিত। তবে আমাদের দেশে এখনও ডিজিটাল জুমসংবলিত ক্যামেরা সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরেই রয়েছে। বাজারদর স্মার্ট এই ডিজিটাল ক্যামেরাগুলো বাজারে ৯,০০০ থেকে ২৫০০০ হাজারের মধ্যে পাওয়া যায়। এর মধ্যে কিছু মডেল যেমন, সনির মডেল ‘এ ৪৮০’ ৯,৩০০ টাকা, ক্যানন ‘আইএস ২৯৫’ ১৫,৩০০ টাকা, ক্যানন ‘এসএস ১২০’ ২৩,০০০ টাকা, সনি ‘৫১০’ ৮,৪০০ টাকা, সনি ‘৫২০’ ৯,৫০০ টাকা, স্যামসাং ‘সিএস ৮০’ ৮,৭০০ টাকা এবং স্যামসাং ‘ডব্লিউবি ৬৫০’ ২২,৫০০ টাকা বাজেটের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে।