বসতবসতি

আলো-ছায়ার দৌরাত্ম্যে

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:২৪
কড়চার ইন্টেরিয়র বিভাগটি চালু করা হয়েছিল পাঠকদের এ সম্পর্কে খুঁটিনাটি বিভিন্ন বিষয় সহজ করে বোঝানোর উদ্দেশ্যে। আর এই লক্ষ্য পূরণে বিভিন্ন সময় আমরা হাজির হয়েছি শহরের নান্দনিক বসতিতে। সেই ধারাবাহিকতায় এ সপ্তাহে কড়চার ইন্টেরিয়র বিভাগে উঠে এসেছে ধানমন্ডি ১১/এ-তে অবস্থিত ২২ বর্গফুট মাপের একটি অ্যাপার্টমেন্টের ইন্টেরিয়র। ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু আর লিখেছেন এমএইচ মিশু সাজানো একটা ঘর সবার কাছেই খুব প্রিয়। একটা বয়স পর্যন্ত এ দায়িত্বটা মা-বাবার হাতেই থাকে। কিন্তু এরপর যখন নিজের ঘাড়ে এসে পড়ে তখন অনেকেই তাল সামলাতে পারেন না। এমন পরিস্থিতে নিজের টাকায় কেনা ফ্ল্যাটটি মনের মতো করে সাজাতে অনেকে শরণাপন্ন হন কোনো ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং হাউসের কাছে। কিন্তু এমন মানুষও আছেন এই শহরে যে কিনা নিজের স্বপ্নের ফ্ল্যাটটি শুধু ক্রয় করেই ক্ষান্ত হননি বরং সেই ফ্ল্যাটের পুরো সাজ-সজ্জার কাজটিও করেছেন নিজের হাতে, নিজের একান্ত মনোযোগে। ঘরের প্রতিটি কোণ সাজিয়েছেন আপন সৃষ্টিশীলতা আর নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে। তিনি হাবিব আবুল মুসতাক। কাজ করছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য হিসেবে। হিসাবরক্ষক হিসেবে পারদর্শী হলেও নিজের ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে তিনি হয়ে উঠেছেন পুরোদস্তুর ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। পুরো বাসাজুড়েই রাখা আছে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা। যেন আলো-বাতাসের একটা সহজ যোগাযোগ থাকে। প্রধান ফটক দিয়ে ঢোকার মুখে ড্রয়িং আর ডাইনিং রুমের মাঝে আছে কিছুটা খালি জায়গা। এখানে তৈরি করা হয়েছে নান্দনিক ফয়ার। একসাথে বেশকিছু বসার আসন আর দুই ধারে দুটি লম্বা শোকেস ঘরে একটা আধুনিকতার পরশ দিয়েছে। এখানে ঘরের আলোক বিন্যাস উল্লেখ করার মতো। শোকেস-দুটির মাঝে পর্দা আর কাঠের ফ্রেমে তৈরি একটা ছোট বসার আয়োজনও আছে। একটু ঢিলেঢালা আড্ডার জন্য একেবারে যুত্সই আসন বলা যেতে পারে। ডাইনিংয়ে খুব বেশি সাজগোজের বালাই নেই। আছে পরিপাটি কাঠে গড়া ৬ আসনের একটা ডাইনিং টেবিল। তবে টেবিলে একপাশে আছে দুই চেয়ারে সাজানো ছোট্ট অংশ। এখানে আলোর খেলাটা পুরো ডাইনিং ঘরে অন্য রকম দ্যুতি এনেছে। ঘরের মোট বেডরুম সংখ্যা ৩টি। এরমধ্যে প্রধান বেডরুমটির খাটের উপর অংশ থেকে শুরু করে দুই পাশজুড়ে কাবার্ড তৈরি করা হয়েছে। এতে করে ঘরের বাকি অংশে অনেক খালি জায়গা তৈরি হয়েছে। বাড়ির বেডরুম দুটি মুসতাক সাহেবের দুই কন্যার। মেয়েদের চঞ্চলতা আর মিষ্টি স্বভাবের মিশেল খুঁজে পাওয়া যাবে এই ঘরদুটির দেয়ালজুড়ে। বাহারি রঙের ছটা মনে করিয়ে দেবে ঘরটি একান্তই মেয়েলী। পুরো ফ্ল্যাটে দুটি রান্নাঘর তৈরি করেছেন মুসতাক। কারণ, তার মতে ঘরের ভেতরের রান্না করলে তা পুরো ঘরে একধরনের ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই তেলবেশি এমন রান্নাগুলো হয় ঘরের বাইরে অংশে তৈরি রান্নাঘরে। মূলত রান্নাঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দাতেই তৈরি করা হয়েছে এই রান্নাঘরের এক্সটেনশন। ঘরের একটা বড় আকর্ষণ এর ফ্যামিলি লাউঞ্জটি। এখানে অর্ধেক দেয়াল তৈরি করা হয়েছে রাফ-টাইলস ব্যবহার করে। ঘরকে আকর্ষণীয় করতে শুধুমাত্র একটু চেষ্টা আর বাজার ঘুরে কম খরচে নিজের নান্দনিকতার সাথে মিল রেখে ঘর সাজানোর অনুষঙ্গ জড়ো করতে পারলে আপনিও করে তুলতে পারেন এমন নান্দনিক গৃহ।