অজান্তে নখ খাওয়া
খুব ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যাবে, নখ খাওয়া অথবা দাঁত দিয়ে নখ কাটা কিংবা নখের পাশের চামড়া কাটার অভ্যাস অনেকেরই আছে। তবে এটাকে অভ্যাস বললে খুব কমই বলা হয়। আসলে দাঁত দিয়ে নখ কাটা খুবই খারাপ একটি বদভ্যাস। এটি যত তাড়াতাড়ি পাল্টে ফেলা যায় তত ভালো।
শুধু ছোট নয়, বড়দের মাঝেও এই নখ খাওয়ার বদভ্যাসটি দেখা যায়।
কিন্তু কেন আমাদের মধ্যে এই দাঁত দিয়ে নখ কাটার বদভ্যাসটি তৈরি হয়? এর পেছনেও রয়েছে বেশ কয়েকটি কারণ। সাধারণত দেখা যায়, কেউ যখন কোনো প্রকার টেনশনে থাকে অথবা এক্সাইটেড থাকে তখন নিজের অজান্তেই একজন একেক রকম ব্যবহার করে থাকেন। কেউ হয়তো বারবার একইরকম অ্যাকশন রিপিট করতে থাকে। যেমন পায়চারী করা, কেউবা কোনো একটি জিনিস যেমন, পেন্সিল, মোবাইল ফোন ইত্যাদি সমানে নাড়াচাড়া করতে থাকেন। তেমনই কেউ কেউ আবার খুব এক্সাইটমেন্ট অথবা টেনশনের সময়ে নখ খান। এই বদভ্যাসটিকে আমরা ডাক্তারি পরিভাষায় অনিকেফ্যাজিয়াও বলে থাকি। এই অভ্যাসকে একধরনের ‘স্টিরিওটাইপিক মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার’ বলে ধরা হয়। সমীক্ষা করে দেখা গেছে, যেসব বাচ্চা নিয়মিত নখ খায় তাদের লেড পয়জনিং হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। অনেকেই হয়তো ভাবছেন নখ খেলে লেড পয়জনিং হবে কীভাবে? বাচ্চারা যখন বাইরে খেলাধুলা করে, বিভিন্ন জায়গায় হাত দেয় তখনই তারা বিভিন্ন ধরনের জীবাণুর সংস্পর্শে আসে। যখন তারা আঙুল মুখে দেয় জীবাণুও তাদের হাত থেকে মুখে ঢুকে পড়ে। এর ফলে ইনফেকশনসহ পেট খারাপও হতে পারে। তবে এর সাথে সৌন্দর্যের ব্যাপারও জড়িত। চিন্তা করে দেখুন তো, নখ খাওয়া আঙ্গুল দেখতে কি খুব ভালো লাগে!
যা করবেন : কীভাবে এই বদভ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, উত্তরটা আমরা সবাই জানি। ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়। বাচ্চাদের এই অভ্যাস দূর করার দায়িত্ব নিতে হবে বাবা-মায়েদের। তাদের বোঝাতে হবে যে, নখ খেলে অনেক ধরনের বাজে অসুখ হতে পারে। আবার এমনও হতে পারে, তারা নখ খাওয়া বন্ধ করলে তাদের পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। নখ খেলে তাদের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়ে যাবে এমন ধারণা তাদের মধ্যে জন্মালে তারা সচেতন হতে পারে।
বই ফেরত না দেওয়া
সবাই অবাক হয়ে ভাবতে পারেন, বই নিয়ে বদভ্যাস হয় কীভাবে! আসলে বই পড়ুয়াদের কিছু বাজে অভ্যাস থাকতে পারে। এর অন্যতম হলো অন্যের বই ফেরত না দেওয়া। যাদের বই পড়ার নেশা তার কোনো বই পেলে উল্টে দেখবেন না এমনটা কখনও হয় না। নিজের বই হোক অথবা বন্ধুবান্ধবদের। এমনতো প্রায়ই হয়ে থাকে, কোন বন্ধুর বাসায় গিয়ে একটা বই খুব ভালো লাগল, বইটা হয়তো আপনার পড়ার ইচ্ছা ছিল, কিনবেন ভেবেও কোনো কারণে কেনা হয়ে ওঠেনি। আর তাই হাতে পেয়ে বন্ধুর কাছ থেকে চেয়ে নিলেন বইটা। খুবই ভালো কথা। এর মধ্যে আর অন্যায়ের কী আছে! কিন্তু এর পরেই দেখা দেয় সমস্যা। ভুলে বই ফেরত না দেওয়ার কথা বলছি না। এমন অনেকেই আছেন যারা বন্ধুদের কাছে থেকে বই নিয়ে ফেরত দেন না। আর এর কারণ হিসেবে অনেকে বলে থাকেন, হয়তো বইটা তার ভালো লাগেনি, তাই ফেরত দেননি।
আচ্ছা, এটি সত্যিই কি কোনো যথাযথ যুক্তি! তাতেই বা কী আসে যায়! বই পড়া শেষ হয়ে গেলে সময়মতো ফেরত দেওয়া কিন্তু আপনারই দায়িত্ব। কারণ বই পড়তে নিয়ে ফেরত না দেওয়া চুরিরই সামিল। এতে একদিকে আপনার সম্মানহানি হবে, তেমনি পরে কেউ আর আপনাকে বই পড়তে দিবে না। এ ছাড়াও তাদের সাথে আপনার সম্পর্কও নষ্ট হয়ে যাবে।
যা করবেন : বই পড়া যদি আপনার প্যাশন হয়ে থাকে তাহলে আশপাশের কোনো লাইব্রেরি থেকে মেম্বারশিপ কার্ড করে নিতে পারেন। চাইলে একই সাথে দু-তিনটা লাইব্রেরিতেও মেম্বারশিপ করতে পারেন। এতে একটা সুবিধা পাবেন। আগের বই ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত নতুন বই দেওয়া হবে না। এতে আপনার বদভ্যাস দূর করা সহজ হবে।
গোসলে অনীহা
রোজ স্নান না করার অভ্যাসটি একবাক্যে খুবই অস্বাস্থ্যকর। আর আমাদের মতো গ্রীষ্মকালীন দেশের জন্য তো অবশ্যই। এই বদভ্যাসের ফলে হতে পারে নানা রকমের অসুখ। প্রতিদিন গোসল না করলে দেখা দিতে পারে স্কিন র্যাশ ও নানা ধরনের স্কিনের সমস্যা। সবচেয়ে বেশি বিরক্তিকর হলো, এর ফলে গায়ে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, পারফিউম ব্যবহার করে সমস্যাটির সহজ সমাধান করা যেতে পারে। তবে তাদের জন্য বলা যায়, এ কাজটি সমাধান না, সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেবে। ঘামের দুর্গন্ধের সাথে মিলে পারফিউম এক বিকট গন্ধের সৃষ্টি করবে। আমদের দেশে গরম ও আর্দ্রতার সাথে দূষণও এত বেশি হয় যে, প্রতিদিন ঘামের সঙ্গে আমাদের শরীরে জমে অনেক ধূলো-ময়লা। আর এই ধূলো-ময়লা আমাদের ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। এ ক্ষেত্রে গোসল করলে ত্বক রিহাইড্রেটেড হয় কারণ জল প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে। সারাদিনের ক্লান্তি কাটানোর জন্য ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলে খুবই তরতাজা লাগে। নিয়মিত গোসল না করলে ঘুমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কারণ গোসল না করলে আপনার বডি টেম্পারেচার বেড়ে যায়, এর ফলে শরীরে একটি অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। যাদের ঘুমের সমস্যা, ইনসোমেনিয়া আছে তাদের রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গোসল করা উচিত।
যা করবেন : গরমকালে প্রতিদিন নিয়ম করে ২বার গোসল করা উচিত। এ ছাড়া যারা খেলাধূলা করেন তাদের জন্য গোসল করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন শরীরের ধূলো-ময়লা দূর হয়, সেই সাথে শরীরটাও ফ্রেশ হয়ে যায়। সন্ধ্যার সময় বেশ কিছুটা সময় নিয়ে স্নান করা উচিত। এ সময়ে সারাদিনের সব চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে রাখলে ভালো। দেখবেন আপনার মুডটা একেবারে পাল্টে গিয়েছে।
মডেল নিলয় ছবি দীপঙ্কর দীপু
