আগামীকাল বুধবার থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চার দিনব্যাপী অষ্টম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলা শুরু হচ্ছে। প্লাস্টিকের তৈরি নতুন নতুন পণ্য ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি প্লাস্টিক পণ্য উত্পাদনকারীদের প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সহজে ক্রয় করার সুযোগ করে দিতেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা জানান এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জসিম উদ্দীন। এসময় উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম হেলাল ও ইউসুফ আশরাফসহ আরও অনেকে।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, বিপিজিএমইএ এবং তাইওয়ানের চ্যান চাও ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় দেশি প্লাস্টিক উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্লাস্টিক পণ্য উপস্থাপন করবে। আর চীন, ভারত, পাকিস্তান, তাইওয়ান, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যসহ মোট ১৫টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্লাস্টিক কারখানার প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও তাদের পণ্য উপস্থাপন করবে। দর্শনার্থীরা বিনামূল্যে প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে কেনাকাটা করতে পারবেন। মেলায় মোট ৩৫০টি স্টল থাকবে। আগামীকাল মেলার উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সমাপনী দিনে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের।
বিপিজিএমইএ সভাপতি মো. জসিম উদ্দীন তার বক্তব্যে বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা, অবকাঠামো সুবিধা বৃদ্ধি, গ্যাস-বিদ্যুত্ সঙ্কটের সমাধান হলে এবং সরকারি প্রণোদনা পেলে প্লাস্টিক রফতানি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়বে। কারণ বিদ্যুতের দামের কারণে বাংলাদেশের প্লাস্টিক পণ্য প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। এদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে ইতিমধ্যে চলতি বছরের প্লাস্টিক পণ্যের রফতানির প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় জিএসপি সুবিধা হারালে এ খাতটি বড় ধরনের আঘাতপ্রাপ্ত হবে। জসিম উদ্দীন আরও বলেন, যদিও মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের প্লাস্টিকের রফতানি খুব বেশি নয়, তবে এ বাজারে সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা বাতিল করা হলেও অন্য দেশগুলোতে বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি নেতিবাচক সংবাদ যাবে। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার জন্য সরকারের চেষ্টা আরো জোরালো হওয়া দরকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
