বিশ্বব্যাংকের অনুমতি পেলেই আবুল হোসেন আসামি

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৩
বিশ্বব্যাংকের রেফারেন্স বা তথ্য বাংলাদেশের আদালতে ব্যবহার করার অনুমতি পাওয়া গেলেই সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামী করা হবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ কারণে বিশ্বব্যাংকের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে দুদক। গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ দলে প্রধান লুই মোরেনো ওকাম্পোকে লেখা চিঠিসহ এ আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। গতকাল সন্ধ্যায় চিঠি সম্বলিত এ আবেদন বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছে উল্লেখ করে ইতিপূর্বে বিশ্বব্যাংক দুদকের কাছে কিছু তথ্য দিয়েছিল। তথ্য দিয়ে বিশ্বব্যাংক আবার দুদককে বলেছে এসব তথ্য বাংলাদেশের আদালতে ব্যবহার করা যাবে না। এসব তথ্য ব্যবহার করা গেলে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে এজাহারেই আসামি করা যেতো। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে তথ্য ব্যবহারের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকায় মামলা করার মতো অভিযোগ রয়েছে জানতে পারলেও আসামী করা সম্ভব হচ্ছে না। যদি বিশ্বব্যাংকের রেফারেন্স বা তথ্য বাংলাদেশের আদালতে ব্যবহার করার অনুমতি পাওয়া যায় তা হলেই সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামী করতে কোনো বাধা থাকবে না। দুদক তদন্ত টিমের তৈরি করা চিঠিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের সম্পৃক্ততা থাকলেও এজাহারে তাকে আসামি না করার যুক্তি দেখানো হয়েছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্ত কমিটি এখনও কানাডার রয়েল মাউন্টেড পুলিশের কাছ থেকে রমেশের ডায়েরির কোনো অনুলিপি পায়নি। বিশ্বব্যাংকের শর্ত প্রত্যাহার এবং কানাডার পুলিশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পাওয়া মাত্রই আবুলকে আসামি করতে বাধা থাকবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আবুলকে চার্জশিটভুক্ত আসামি করতে দুদক কানাডার রয়েল মাউন্টেড পুলিশের কাছে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের অপেক্ষায় রয়েছে এমন কথা চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ২০১১ সালের ২৯ মে এসএনসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আবুল হোসেনের বৈঠকে সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সেতুর বিষয়ে করা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কিনা তা দেখা হচ্ছে এবং সেই সঙ্গে সরকারি ক্রয় নীতিমালা ২০০৬ নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী সেতুর পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আবুল হোসেনের বৈঠক করা ঠিক ছিল কিনা বা এতে কোন পক্ষের হয়ে সুবিধা দেয়ার ইঙ্গিত ছিল কিনা তাও ভালোভাবে কতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে তদন্ত পর্যায়ে আবুল হোসেনকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। চিঠিতে আবুল হোসেনকে আসামী করা না করার ব্যাপারে বলা হয়েছে, দুদক বিধিমালা-২০০৭ অনুযায়ী কোন দুর্নীতির ঘটনায় এজাহার দাখিলের পর এজাহার নামীয় আসামি ব্যতীত অন্য যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাদের নাম ‘গ’ কলামে আসামি হিসেবে উল্লেখ করতে হয় এবং সাক্ষ্য স্মারকে (তদন্ত প্রতিবেদন) তাদের অপরাধ সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট দেয়া যায়। তদন্ত টিম এখন তাই করছে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, গতকাল বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রধান ওকাম্পোকে পাঠানো চিঠিতে বিশ্বব্যাংকের দেয়া তথ্য ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের দুই পৃষ্ঠার একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার, বিশ্বব্যাংকের আটটি ৮ প্রশ্নের ব্যাখ্যাসহ মোট ১২ পৃষ্ঠার একটি ফাইল এবং তদন্তের বিভিন্ন বিষয়ের তথ্য সম্বলিত ৩৫ পৃষ্ঠার অপরএকটি ফাইল রয়েছে।