মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রথম রায় নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সন্তোষ প্রকাশ করলেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গতকাল সোমবার জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য (রুকন) আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। এ ব্যাপারে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অধিকাংশই অভিন্ন কণ্ঠে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত জানার পর তারা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবেন। এর আগে তেমন কিছু বলতে তারা অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে কয়েকজন এ বিষয়ে সতর্ক মন্তব্যও করেছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ারের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নেই, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াও নেই। দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হলে পরে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে।’ দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘রায় হয়েছে, এ ব্যাপারে আমাদের দলের অবস্থান কী তা আমি জানি না। দল আমাকে কথা বলতেও বলেনি। দলের অবস্থান জেনে নেই, তারপর কথা বলতে পারব।’ স্থায়ী কমিটির আরো দুই সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং আ. স. ম হান্নান শাহও তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
তবে বিকালে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রমিক দলের উদ্যোগে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপির সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম বলেন, রক্ষীবাহিনী গঠন করে সিরাজ শিকদারসহ ৪০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সে সবেরও বিচার চাই। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপি জিয়ার দল। আমরা এ বিচার পূর্ণভাবে সমর্থন করি। আমরাও চাই সবার বিচার হোক; কিন্তু তা হতে হবে আন্তর্জাতিক মানের ও স্বচ্ছ। এ বিচার যেন দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য না হয়। তিনি সরকারের ভেতরের ও বাইরের সব মানবতাবিরোধী অপরাধীর বিচার করে দেশকে জঞ্জালমুক্ত করার আহ্বান জানান।
এর আগে সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় সম্পর্কে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে দলের দফতরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, রায়ের বিষয়ে বিস্তারিত না জেনে কিছু বলা ঠিক হবে না। তবে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়ে আমাদের (বিএনপির) অবস্থান পরিষ্কার। আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি- এই বিচার হতে হবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। সত্যিকার অর্থে যারা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন তাদের বিচার হতেই হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এ রায় নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তার সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টি কোনোটিই নেই। সঠিক বিচার হলে আপত্তি নেই, তবে তা যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে না হয়। এছাড়া তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা বর্তমানে কারাবন্দি তাদের আগে পলাতক একজনের বিচারের রায় হওয়ার বিষয়টি কোনো নাটক কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
