পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট প্রত্যাহার

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৬
পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে মালিক শ্রমিকরা। গতকাল সোমবার বিকালে সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে ধর্মঘট তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুত্ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন, বিপিসি চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান, পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের আহবায়ক নাজমুল হক, মহাসচিব হারুন-অর-রশীদসহ অন্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। উভয়পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছানোতে ধর্মঘট তুলে নেয়া হয়েছে বলে বৈঠক শেষে জানানো হয়। এদিকে ধর্মঘটের কারণে গতকাল বিভিন্ন স্থানে বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করতে দেখা গেছে। কমিশন বাড়ানোসহ নয় দফা দাবি আদায়ের জন্য গত রবিবার থেকে সারাদেশে পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘট ডাকে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বৈঠকের পর ট্যাংক লরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি নামজুল হক সাংবাদিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের কথা জানান। তিনি বলেন, সরকার তাদের সকল দাবি মেনে নেয়ায় এখন থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রিতে ২৫ পয়সা কমিশন বাড়িয়ে এক টাকা ৪৫ পয়সা, পেট্রোলে ৫১ পয়সা কমিশন বাড়িয়ে তিন টাকা ৫০ পয়সা, অকটেনে ৪৯ পয়সা কমিশন বাড়িয়ে তিন টাকা ৩৬ পয়সা, কেরসিনে ২০ পয়সা কমিশন বাড়িয়ে ৯০ পয়সা নতুন কমিশনের হার নির্ধারণ করেছে। এছাড়া ট্যাংক লরির ভাড়া প্রথম ৪০ কিলোমিটারে কিলোমিটার প্রতি ৫ পয়সা বাড়িয়ে ৪৫ পয়সা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের জন্য ১১ ভাগ বাড়িয়ে দুই টাকা ২২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধর্মঘট পরবর্তী তেল বিক্রির সময় থেকেই নতুন কমিশন কার্যকর হবে। এছাড়া কর্মীদের বীমা, টার্মিনাল নির্মাণ, নিরাপত্তা, তেলের ভেজাল রোধ করা ও অবৈধ তেল বিক্রি বন্ধ, বিএসটিআই’র টলারেন্স মাত্রা যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। বৈঠকের পর জ্বালানি সচিব মেজবাহউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, পাম্প মালিকরা শতকরা হিসাবে তেলের দামের সঙ্গে কমিশন বাড়ানোর দাবি করছে। এ বিষয়ে তারা একটি কমিটি গঠন করবে, ওই কমিটি পর্যালোচনা করে বিষয়টির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবে। সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটায় জ্বালানি বিভাগে বৈঠকটি শুরু হয়ে সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে শেষ হয়। এদিকে গতকাল সারাদিন দেশে পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকায় তীব্র ভোগান্তির শিকার হয় সাধারণ ক্রেতারা। এদিকে গতকালও দেশের কোন ডিপো থেকে তেল তোলেনি কোন পেট্রোল পাম্প মালিক ও ডিলাররা। ধর্মঘটে টাঙ্গাইলে ডিজেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে: বোরোতে সেচ বিঘ্নিত গোপালপুর(টাঙ্গাইল)সংবাদদাতা জানান, ওনার্স এসোসিয়েশনের ধর্মঘটে টাঙ্গাইলের পাঁচ উপজেলায় ডিজেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। ডিলার ও পরিবেশকরা ডিজেল বিক্রি বন্ধ রাখায় মুনাফালোভী দোকানদাররা ৬৯ টাকা লিটার ডিজেল ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করছে। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করায় কোথাও কোথাও ডিজেল একদম পাওয়াও যাচ্ছে না। আজ সোমবার এ সংবাদদাতা টাঙ্গাইলের গোপালপুর, মধুপুর, ধনবাড়ি, ঘাটাইল ও ভূঞাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে বাড়তি দামে ডিজেল বিক্রির ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। জানা যায়, টাঙ্গাইলের এ পাঁচ উপজেলায় এবার বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় এক লক্ষ একর। শৈত্যপ্রবাহের দরুন বীজতলা ব্যাপক হারে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চাষীরা বোরো চাষে এমনিতেই হতাশ। তদুপরি গোঁদের উপর বিষফোঁড়ার মত সেচ মৌসুম শুরুর প্রারম্ভেই ডিজেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় তারা বিমর্ষ হয়ে পড়েছে। এ পাঁচ উপজেলায় ডিজেল বিক্রির ডিলার রয়েছেন ১১জন। আর পরিবেশক ১৩জন। ধর্মঘটের জন্য গত রবিবার থেকে এরা ডিজেল বিক্রি বন্ধ রাখায় বাজারে ডিজেলের সঙ্কট চলছে। এ সুযোগে ফায়দা লুটছে মাঝারি ও ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা। এরা ধর্মঘটের সুযোগে গোপন মজুদ গড়ে তুলে বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করে মুনাফা লুটছে। মধুপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এবং জটাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস ছালাম অভিযোগ করেন, বাজারে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও দাম লিটার প্রতি ১০/১৫ টাকা বেশি। গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের চাতুটিয়া গ্রামের কৃষক রমযান আলী জানান, ডিজেলের অভাবে অনেকের সেচ পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। বোরো আবাদ শুরুতেই হোঁচট খাচ্ছে। কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ জানায়, এখানে ডিজেল চালিত গভীর-অগভীর সাড়ে চার হাজার সেচ পাম্প রয়েছে। ডিজেল সংকটের কারণে সেচ বন্ধ থাকলে বোরো চাষ মুখ থুবড়ে পড়বে। জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবি ১০ দলের বিদ্যুত্ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী মোহম্মদ এনামুল হকের সঙ্গে দেখা করে জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন মহাজোটের তিন শরীকদলসহ ১০দল। একই সঙ্গে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া বন্ধেরও দাবি জানানো হয়। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিদ্যুত্ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন দেখা করে ১০ দলের পক্ষ থেকে এ দাবি জানান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন গণঐক্যের আহ্বায়ক পঙ্কজ ভট্টাচার্য, গণআজাদী লীগের হাজী আব্দুস সালাম, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম। অন্যদলগুলো হচ্ছে সাম্যবাদীদল, বাসদ, জনসংহতি সমিতি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি এবং ন্যাপ।