আমার প্রিয় স্কুল

ময়নামতি স্কুল ও কলেজ

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫৮
সুপ্রাচীন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কৃষ্টির চারণভূমি ময়নামতি। প্রাগ ঐতিহাসিক যুগ হতে বর্তমান পর্যন্ত অনেক ইতিহাসের সাক্ষী ও কিংবদন্তির উত্স এ অঞ্চল। হাজার বছরেরও আগে বৌদ্ধ সভ্যতার সময় এখানে ছিল আলোর মশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের এক কিংবদন্তি। নাথ সাহিত্যের গোপী চন্দ্রের মাতা রানী ময়নামতি। ময়নামতির রানীর প্রসাদ সে কালের সাক্ষ্য আজও বহন করছে। লম লম সাগরের উত্তরে পাহাড়ি কন্যা গোমতীর তীর ঘেঁষা ময়নামতি রেশম বাগান-প্রকৃতির এক লীলাভূমি। ময়নামতিতে প্রস্তুত মসলিন এক সময়ে দেশি-বিদেশি রাজ রাজাদের অনেক সুখ্যাতি বয়ে এনেছিল। আমির সওদাগর ও ভেলুয়া সুন্দরীর কাহিনী প্রাচীন বাংলার লোকগাঁথা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। অষ্টম শতকের লালমাই শালবন বিহারে গড়ে ওঠা বৌদ্ধ সভ্যতার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আনন্দ বিহার ও শালবন বিহার। অতীত ঐতিহ্যের এই পথ ধরেই জন্ম হয়েছে ময়নামতি হাই স্কুল। এ অঞ্চলের সর্ব প্রাচীন মাধ্যমিক স্কুল ১৯৩৩ সালে। আবার ১৯৩৩ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৮০ বছর বয়সি এই প্রতিষ্ঠানটি চলতে গিয়ে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১৯৬২ সালে কতিপয় দুষ্কৃতকারীর হাতে স্কুল ঘরটি পুড়ে যায়। শিরদাঁড়া সোজা করে উঠতে না উঠতেই এসে যায় মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনী এই বিদ্যালয়টিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। কিন্তু এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, শিক্ষানুরাগী, দানশীল ব্যক্তিগণ ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় এ বিদ্যালয়টিকে পাঠদানের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। বিদ্যালয়টি ফিরে পায় তার পূর্ব ঐতিহ্য। ১৯৯৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক (কলেজ) স্তরে উন্নীত হয়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয় নামক প্রবন্ধে বলেছেন, আজ আমাদের গর্বের বিষয় হল নালন্দার সর্বাধ্যক্ষ মহাস্থবির শীল ভদ্র একজন বাঙালি ছিলেন। এই স্কুল শীল ভদ্রের ছোঁয়ায় আলোকিত এবং এই বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী শীল ভদ্রেরই উত্তরসুরি। ২০১১ সালে হীরক জয়ন্তী উত্সব-২০১১’ মাধ্যমে নবীন-প্রবীণের মিলন মেলায় উদ্ভাসিত হয় ময়নামতি স্কুল ও কলেজ। রানী ময়নামতির ঐতিহাসিক প্রাসাদ সংলগ্ন কুমিল্লা সিলেট মহাসড়কের পূর্ব পার্শ্বে সুউচ্চ পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে যাদের উদ্যোগ, দান ও সহযোগিতায় আজকের এই প্রতিষ্ঠান, তারা হলেন—হাজী আফসার উদ্দিন ভুইয়া, ডা. মোয়াজ্জেমুল হক ভুইয়া, ডা. সালামত উদ্দিন ভূইয়া, একেএম আবুল বাশার, আমীর আলী ভুইয়া, সুলতান আহম্মেদ, ডা. জহিরুল হক ভূইয়া, মো. শামসুল আলম খাঁন, মরহুম মো. আবদুর রাজ্জাক ও রোটারিয়ান আনোয়ার হোসেন। প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক শ্রী কুমোদ দাশ গুপ্ত, প্রধান শিক্ষক শ্রী নলিনী কান্ত লোধ, বজলুর রহমান, এমএবিকম. বিএড, রেজাউল করিম ভূইয়া, এমএবিএড প্রমুখ এবং বর্তমান অধ্যক্ষ মীর একে ফজলুল হক (জালাল) এমএসসি সুদক্ষতার সাথে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রাক্তন শিক্ষক যারা শিক্ষকতার মহান ব্রত নিয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন- শ্রী উপেন্দ্র চন্দ্র (১ম), শ্রী উপেন্দ্র চন্দ্র (২য়), মাওলানা আবদুল বারী, আবদুল মান্নান খন্দকার, শ্রী রমনি মোহন দাস, মরহুম ইয়াসীন ভূইয়া, আবদুল কাদির খাঁন বিএ, আবদুল মুকিম বিএসসি, শ্রী যুক্ত সুরেন্দ্র মোহন চক্রবর্তী (পণ্ডিত), শ্রী হারাধন চৌধুরী, সহকারী প্রধান শিক্ষক, আবুল হাসেম ভূইয়া, (সহ-প্রধান শিক্ষক), মঞ্জুর হোসেন, মো. আবুল কাশেম, শামসুল আলম খান, ইশরাত হায়দার মামুন, মাওলানা মোমিনুল হক ও মীর জামাল উদ্দিন। কৃতীমান ছাত্রদের মধ্যে যারা বেঁচে নেই—ড. শব্দর আলী, অধ্যাপক ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ড. সিরাজুল ইসলাম, প্রাক্তন অধ্যক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, ড. আবদুর রহমান প্রাক্তন উপ-পরিচালক, ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট জয়দেবপুর, সৈয়দ হাফেজ আহম্মদ প্রাক্তন অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) বদিউল আলম, ডিগ্রি কলেজ কোম্পানীগঞ্জ ও শাহজাহান প্রাক্তন উপ-পরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংক, ছড়া লেখক মীর জামাল উদ্দিন এই স্কুলের ছাত্র। এ এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্য ও প্রাক্তন আইন মন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ, উপজেলা চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ও এলাকার বিশিষ্টজন আলহাজ্ব জহিরুল ইসলাম (প্রাক্তন চেয়ারম্যান), আকলাক হায়দার (প্রাক্তন চেয়ারম্যান) আলহাজ্ব আবদুল মতিন, একেএম মোরশেদ, রমিজ উদ্দিন আহমেদ, ড. আবু জাফর সালেহ আহম্মেদ খন্দকার, কাজী লিয়াকত আলী চৌধুরী, প্রভাষক মজিবুর রহমান, এ্যাড. প্রহলাদ দেবনাথ ও বর্তমান চেয়ারম্যান লালন হায়দার ময়নামতি স্কুল ও কলেজের মান উন্নয়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি এই স্কুল ও কলেজে পড়তে পেরে গর্বিত।