শীতের ছড়া কবিতা

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:০১
অতিথি পাখি গুলশান আরা ও পাখি তুই সাইবেরিয়ার হিম কুয়াশা পেরিয়ে এলিই যদি বাংলাদেশে একটু যা-না বেড়িয়ে। বিল বাঁওড়ে কাঁকড়া-শামুক হরেক রকম মাছে ডুবসাঁতারে ধরবি খাবি থাকবি হিজল গাছে। বট-পাকুড়ের মগডালে আর ছিটকি বেতের ঝাড়ে নয়ন কাড়া ধূসর পাখি থাকে ও ডিম পাড়ে। বন্ধু করে নেবে দেখিস- করবে কত খাতির বুঝিয়ে দেবে পাখি হলেও পাখি মহত্ জাতির! --- ঘুমপরি তাহমিনা কোরাইশী আয়রে তোরা ঘুম পরিরা ঘুমের বাঁশি নিয়ে বাজিয়ে যাও মিঠেল সুরে ঘুমের যাদু দিয়ে। আকাশ গাঁয়ে তোমার বাড়ি মেঘ পাহাড়ের চূড়া দাওয়াত দিলাম রোদের খামে বসতে দেবো ‘মুড়া’। খেতে দেবো পিঠাপুলি হরেকরকম মিষ্টি। হিমেল হাওয়ার আকাশটাতে যদি না হয় বৃষ্টি। ঘুম নেমেছে ঘুম নেমেছে টিএরার দু’চোখ জুড়ে ঐ যে দেখ ঘুম পরিরা যাচ্ছে অনেক দূরে। --- গরম জামা শাহাবুদ্দীন নাগরী হিসেব ছিলো ভুলটায় তাই উঠেছি পুলটায় ঘোলা আকাশ হঠাত্ দেখি শীতের হাঁড়ি উল্টায়। পাই না আমি কারো আদর, কে দেবে আজ একটি চাদর? কাঁপছি পথে থরথরিয়ে প্রাণ যাচ্ছে বেরিয়ে, সামনে দেখি অনন্ত পথ কীভাবে যাই পেরিয়ে? হঠাত্ দেখি সূর্য মামা, পরিয়ে দিলো গরম জামা। ---- শীতবাবা আলম তালুকদার শীতে থাকে জড়তা আর থাকে থির ঠাণ্ডা বাতাসে কাঁপে কোটি শির পুরো দেশ করে দেয় বরফের ক্ষীর কম্বলে ঢুকে যায় বাঘা বাঘা বীর। খানা-দানা জমে যায়, জমে যায় শ্বাস বরফের দখলে তাজা ইতিহাস গরমের অভাবে গরিবেরা লাশ এইসব শীতভীতি আর কত মাস? ভয়ে আছে সূর্য ভয়ে থাকে তাপ অবারিত ঠাণ্ডার নেই মা-বাপ। রাজপথ ফাঁকা থাকে নেই কোনো চাপ শীতবাবা এবারে করে দাও মাফ। --- ভুতুমের ডেরাতে জাহাঙ্গীর আলম জাহান ভূতগুলো অদ্ভুত কিমাকার কিম্ভুত। আন্দরকিল্লায় সারারাত চিল্লায় করে শুধু হইচই ভূত কই, ভূত কই? ভূত গেছে বেড়াতে ভুতুমের ডেরাতে। তারপর কী হলো? পান্তায় ঘি হলো। ---- শীতের ছড়া তারিকুল ইসলাম শীত সকালে মনটা কাড়ে খেজুর রসের পিঠা, গাঁয়ের সবাই আসর জমায় পেলে রোদের ছিটা। শীত সকালে হয় না জুড়ি মায়ের হাতের বড়া, খুকুর মুখে ছড়ায় মধু শীত সকালের ছড়া। --- শিশিরভেজা মোহাম্মদ ইলইয়াছ ফুলকলিরা সুবাস ছড়ায় শিশিরভেজা রাতে খুকুমণি বায়না ধরে চাঁদ-তারাদের সাথে। জোছনা আসে আলো নিয়ে খুকুমণির পাশে শিশিরকণা মুক্তা হয়ে মিটমিটিয়ে হাসে। --- রোদের বাঁশি মালেক মাহমুদ শীতের চাদর যায় ছড়িয়ে হলুদ ফুলের গাঁয় গড়িয়ে রোদের দেখা যায় না মোটে শীতের বুড়ি নাচতে ওঠে সন্ধে তারার ঠোঁটে। সর্ষে হাসি হাসতে পারে শিশির কণা ভাসতে পারে কাঁপতে থাকে গরীব দুখি ওম জড়ানো লেপ জড়িয়ে বস্ত্রহীনা শীত গড়িয়ে সুখিই বড় সুখি। সূর্য বাজায় রোদের বাঁশি দুখির মুখে সুখের হাসি। --- বড়া আবেদীন জনী খেজুর রসের লোভে পড়ে ওই এলো শীতবুড়ি ঝোলা খেজুর গুড় মিশিয়ে খাবে সে খই-মুড়ি। বুড়ির খেতে মন চেয়েছে গরম ভাঁপা-পুলি শখ হয়েছে খোকার সাথে খেলবে সে ডাংগুলি। শুনলে বুড়ির শখের কথা সবাই হেসে মরতো শীত বুড়ির খুচরো প্যাঁচাল খুঁজবে কে তার অর্থ? --- শীতে ইয়াসিন চাতক পথের পাশে মামার বাড়ি খেজুর গাছে রসের হাঁড়ি। পিঠা পায়েস খেজুর গুড়ে খাচ্ছি সোনা রোদে পুড়ে কনকনে এই শীতের সাঁঝে হাড় কাঁপানো শীতের মাঝে। --- ঝিকমিক চঞ্চল শাহরিয়ার শীত মানে খুব শীত লেপ কাঁথা গায় গল্পের ঝাঁপি খুকু খুঁজে পেতে চায়। গল্পের ঝাঁপি বুঝি গেছে পিকনিক শীতের রোদটা তবু করে ঝিকমিক। ---- সকালে আলতাফ হোসাইন রানা শীত সকালে মিষ্টি মধুর রোদ হাসছে দেখে সবুজ ঘাসে শিশির কণা পড়ছে এঁকে বেঁকে। শীত সকালে দোয়েল-শালিক সরষে বোনা ক্ষেতে, লাউ-কুমড়ো পুঁইয়ের মাচায় উঠলো খেলায় মেতে। শীতল সকালে সোনা রঙের রোদ ঝিকমিক আলো আলতো ছোঁয়া উমের পরশ কার না লাগে ভালো! ---- হিমেল হাওয়া গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল শীতের দিনে হিমেল হাওয়া ভাঁপাপুলি পিঠে খাওয়া। খেঝুর গাছে রসের হাঁড়ি যাবো আমরা মামাবাড়ি। নীল আকাশে উড়ছে ঘুড়ি কাঁপছে শীতে গাছের গুড়ি পায়রা ডাকে বাকুম বাক শীত এবার দূরে যাক। ---- আসল কথা দীনেশ চন্দ্র পাণ্ডে কাজলা দিদি কাটছে শীতে মিহিন সুতো চরকার এমন দিনে ঘরে ঘরে গরম কাপড় দরকার। রসিক দাদু কাঁপছে শীতে রসের কথা কম বলে ঢুকল গিয়ে থাকতে বেলা উলের মোটা কম্বলে। আসল কথা কেউ চায় না ছাড়তে গরম বিছানা মহিষ-বাঘের পশম খাড়া দেখতে পারো মিছা না। --- এসো শিরিন সুলতানা জলদি এসো দেখবে বন্ধু আমার বাংলাদেশ পোষ-পার্বণে শীতের আমেজ জমছে কেমন বেশ। নতুন গুড়ের নতুন পিঠা রসে টলোমল মিষ্টি রোদে ঘাসের ডগায় শিশির ঝলোমল। --- শীত এলো তাফরিহ জামান লামিয়া সদস্য নম্বর: ৯৫৭ শীত এলো খোকা-খুকু নানা বাড়ি যায় নানা বাড়ি গিয়ে তারা রসের পিঠা খায়। শীত এলো গাছের পাতা ঝরে এলোমেলো খুকুর চোখে শীতল বাতাস পেলবতা পেলো। শীত এলো সন্ধ্যা-সকাল গায়ে শিহরণ জাগে উদোম গায়ে সোনার রোদ মধুর মতো লাগে। জিনজিরা, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা। ---- যারা লেখা পাঠিয়েছো শীত সংখ্যার জন্য আরো যারা লেখা পাঠিয়েছো, তারা হলো: মিতুল সাইফ, বিশ্বনাথ বিশ্বাস, জুয়েল মাহমুদ, সুবীর বসাক, বদরুল বোরহান, কাজী আবুল কাশেম রতন, মো. আমির হোসেন মিলন, মো. মনির তালুকদার। নাজিব ওয়াদুদ, মারুফ আহমেদ, বেণী মাধব সরকার, আবু সাইদ কামাল, সুলতান আকন, চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু, মো. তারিকুল ইসলাম প্রিন্স, চাঁন মিয়া চান্দু, বদরুল বোরহান, মোস্তফা কামাল সোহাগ, শামসুদ্দিন আহমেদ, সালাম হাসেমী, মো. জাকির হোসেন, ফরিদ আহমেদ জয়, জাহাঙ্গীর হোসেন বাদশাহ, শিরিন সুলতানা, জয়নাল আবেদীন বিল্লাল, মুন্সী আবদুল মালেক, জাহাঙ্গীর ডালিম, সুমনা আক্তার মীম, খুসবু খন্দকার, কাজী আবুল হাসেম রত্ন প্রমুখ। তোমাদের পাঠানো লেখা বাছাই করে মনোনীত লেখা পরবর্তী সংখ্যাগুলোয় ছাপা হবে।