ন্যায্য দাম পাচ্ছে না চাষিরা

ঠাকুরগাঁওয়ের ধানের হাট সিন্ডিকেটের দখলে

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০০
ঠাকুরগাঁও জেলার প্রধান প্রধান ধানের বাজারগুলো সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের হাতে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। কৃষক চাষি উত্পাদকরা এদের হাতে জিম্মি হয়ে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ধানের বেচা-কেনা করছে। জেলার ভুল্লি¬, গড়েয়া, শিবগঞ্জ, খোচাবাড়ী, পীরগঞ্জ কলেজ হাট, নশিবগঞ্জসহ হাটগুলোতে প্রচুর ধানের আমদানি হয়ে থাকে। চাষিরা ন্যায্য দামের আশায় উল্লে¬খিত হাটগুলোতে গরুর গাড়ি. ভ্যানগাড়িযোগে ধান বিক্রি করতে আসে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে তাদের ইচ্ছেমত দাম নির্ধারণ করে কৃষকদের হাতে নামমাত্র মূল্য তুলে দিচ্ছে। সিন্ডিকেটওয়ালারা অন্য জেলার ধান ক্রেতাদের এই জেলার হাটগুলোতে ধান ক্রয়ে বাধা সৃষ্টি করছে। এ অবস্থা পীরগঞ্জ কলেজ হাট,নশিবগঞ্জ হাটের প্রতি হাটবারের ঘটনা। এখানকার মিল চাতালের ধুরন্ধর ধান ক্রেতারা এসব করছে। এদের হাতে রয়েছে মাস্তান সন্ত্রাসীরা। কোন কৃষক তাদের ঘোষণার দামে ধান বিক্রি করতে রাজি না হলে নেমে আসে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জুলুম, অত্যাচার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের এক কর্মকর্তা মন্তব্য করেন: মুক্তবাজার অর্থনীতিতে এসব কোন ঘটনা নয়। তবে ওই কর্মকর্তা স্বীকার করেন জেলার হাটগুলোতে বিক্রেতারা ন্যায্য দাম হতে বঞ্চিত হচ্ছে। এলাকার বিভিন্ন হাটে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা দরে। এর সঙ্গে বস্তাপ্রতি নেয়া হচ্ছে ১ কেজির উপরে ধলতা। অন্য বছর জেলার খোচাবাড়ী, গড়েয়া, ফাড়াবাড়ি, ভুলি¬,কাতিহার হাট হতে অসংখ্য ট্রাকে করে ধান ক্রয় করে নিয়ে যেত বিভিন্ন জেলার চাল ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এবার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অন্য জেলার ধান ক্রেতাদের ট্রাক নিয়ে ঢুকতে দিচ্ছে না। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা কম দামে ধান কিনে সরকারি খাদ্য গুদামে চাল তৈরি করে সরবরাহ করছে। এতে তারা মুনাফা লুটছে প্রতি বস্তায় ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা ।