ইশালের বয়স চার বছর। সানিডেল স্কুলে প্লে’তে পড়ছে সে। মা সালসাবিলা তাকে বলছেন, তুমি যা-ই পার তা-ই বানাও। তাই একদলা মাটিকে সে লম্বা করে সাপের মতো বানাচ্ছে। আব্দুর রাফি বিশ্বাস উদয়ন স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সে মাটি দিয়ে নৌকা বানানোর কাজে ব্যস্ত। প্রশ্ন করি, তুমি কি মাটির পুতুল বানানো পার? উত্তর, না। তাহমিনা রহমান নিশাত মাটি দিয়ে সুন্দর একটি পাখি বানিয়ে ফেলল। আরেক মা তাঁর ছোট্ট সোনামণিকে বলেন, তোমার যা বানাতে ইচ্ছা করে তুমি তা-ই বানাও। সে একটু ভেবে নিয়ে বলে, পিত্জা বানাব? মা তাতেই মহাখুশি। বলেন, বানাও বাবা, পিত্জাই বানাও। এভাবে বিশ জন শিশু ২৭ এপ্রিল শনিবার জাতীয় জাদুঘরে ‘মাটি নিয়ে খেলা’ পর্বে মাটির পুতুল বানাতে বসে তাদের পছন্দের জিনিস বানায়। এখানে ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যম স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও মাটি নিয়ে খেলার আনন্দ উপভোগ করে। তাদের শেখাতে রাজশাহীর পবা থানার বসন্তপুর গ্রাম থেকে মৃিশল্পী শ্রী সুবোধ কুমার পাল আসেন।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আর বাংলার আবহমানকালের মৃিশল্পীদের হাতে তৈরি মাটির পুতুল নিয়ে জাতীয় জাদুঘরে তিন দিনের এক প্রদর্শনী চলছে। এই প্রদর্শনীর একটি অংশ ছিল শিশুদের সঙ্গে মাটির পুতুলের সম্পর্ক তৈরি করা। আয়োজন করেন শিল্পী সামিনা নাফিজ। তিনি নিজেও দেশের লোকশিল্প নিয়ে কাজ করছেন দীর্ঘদিন। প্রদশর্নীতে তাঁর লেখা ‘পুতুল :বাংলার প্রাণ-প্রতিমা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ সময় শিশু একাডেমির চেয়ারপারসন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
