বনবিভাগের ছত্রচ্ছায়ায় বান্দরবানের হলুদিয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বৃক্ষ নিধনের মহোত্সব চলছে। সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের হলুদিয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে উজাড় করে ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, কেওচিয়া বন গবেষণা কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চলের গাছগুলো সাতকানিয়ার এক জামায়াত নেতার নেতৃত্বে চোরাকারবারী চক্র কেটে সড়কপথে ট্রাকযোগে বিভিন্নস্থানে পাচার করছে। বড়দুয়ারা বিট কর্মকর্তা ইকবাল উদ্দিন জানান, চেকস্টেশন দিয়ে অনুমতি নেয়া কাঠের চালান ছাড়া হচ্ছে। গত সোমবার সরেজমিনে হলুদিয়ার নবীনগরে গিয়ে দেখা গেছে, ঐ জামায়াত নেতা ৫০/৬০ জন শ্রমিক দিয়ে দিনে-দুপুরে নির্বিচারে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটছেন। ইতিমধ্যে বনাঞ্চলের একাংশের মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করে দিয়েছে চোরাকারবারী চক্রটি। কয়েকশ’ গাছ কেটে বাগানের পার্শ্ববর্তী রাস্তায় মজুদ করে রাখা হয়েছে পাচারের উদ্দেশে। রাতের বেলায় মজুদ কাঠগুলো ট্রাকযোগে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বড়দুয়ারা চেক স্টেশনের উপর দিয়ে বিভিন্নস্থানে পাচার করা হচ্ছে। গাছকাটা শ্রমিক জাকিরসহ কয়েকজন জানান, ৩শ’ টাকা বেতনে তারা গাছ কাটছেন। বনবিভাগের লোকজনও বিষয়টি জানেন। তাদেরও আমাদের মত টাকা দেয়া হয়েছে। এদিকে ঐ জামায়াত নেতা জানান, হলুুদিয়ায় ৩টি ব্লকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছগুলো তারা ৭৪ লক্ষ টাকায় কিনেছে। কাঠ কাটার জন্য বান্দরবান বনবিভাগে দু’টি আবেদন করেছি। তবে এখনো পর্যন্ত গাছ কাটার কোনো অনুমোদন দেয়া হয়নি। বান্দরবান সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা এবং বড়দুয়ারা চেক স্টেশনের বিট কর্মকর্তা ইকবাল উদ্দিনের পরামর্শে গাছগুলো কাটা হচ্ছে। এ বিষয়ে বান্দরবান সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার শহিদুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের মালিক তার বন্দোবস্তির জায়গায় বাগান থেকে গাছ কাটতে কয়েকদিন আগে অনুমোদনের জন্য দুইটি আবেদন করেছেন। বনবিভাগের লোকজন সরেজমিনে বাগানগুলো পরির্দশন করেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত গাছ কাটা এবং কাঠ পরিবহনের কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। জানা গেছে, সদর উপজেলার হলুদিয়ায় ঐ ব্যবসায়ী গ্রুপের নামে মাত্র ৫ একর ভূমি বন্দোবস্তি রয়েছে। কিন্তু অভিযোগে রয়েছে গ্রুপটি সরকারি খাস ভূমি ও পাহাড় দখল করে রেখেছে প্রায় ১শ’ একরেরও বেশি। পার্বত্য এলাকার বাসিন্দা না হয়ে কিভাবে ভূমি বন্দোবস্তি পেয়েছে তা নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে বান্দরবান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তৌছিফুল বারী খান জানান, হলুদিয়ায় গাছ কাটার জন্য জন্য দু’টি আবেদন জমা পড়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো অনুমোদন দেয়া হয়নি এবং অনুমোদন দেয়া হবে না। কিন্তু অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে পাচারের খবর পেয়েছি। চক্রটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে সদর রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
