মন্ত্রী আসবেন তাই বেহাল রাস্তায় চলছে জোড়াতালির কাজ

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৭
যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মির্জাপুর ও সখীপুরে আসবেন আগামী শনিবার। তাই সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারের লোকজন মন্ত্রীকে দেখানোর জন্য তড়িঘড়ি করে ভাঙাচোরা ও বেহাল সড়কগুলো রেকার ও রোলার দিয়ে সমান করার কাজে মেতেছেন। ধুলোবালি যাতে না ওড়ে সে জন্য চলছে রাস্তার উপর পানি ঢালা। মেরামতের কাজ দিন-রাত চলছে। গতকাল মঙ্গলবার মির্জাপুর-সখীপুর-ঢাকা সড়কে গিয়ে দেখা যায়, জোড়াতালির কাজ চলছেই। প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘স্যার আসছেন, তাই যতদূর পারছি রাস্তা ঠিকঠাক করছি।’ এদিকে অর্থ সংকটসহ নানা জটিলতার কারণে মির্জাপুর ও সখীপুর উপজেলায় অনেক উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে আছে। যোগাযোগ মন্ত্রী মির্জাপুর ও সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ দেখতে আসবেন বলে আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে। জানা গেছে, দুই বছর আগে একনেকে ৩০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন হলেও নানা জটিলতায় তা ভেস্তে যেতে বসেছে। বিগত চার দশকে ঢাকা-সখীপুর-মির্জাপুর ৭২ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও মেরামত না হওয়ায় শোচনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙাচোরা রাস্তায় মাঝে-মধ্যে লোক দেখানো সংস্কার কাজ করা হলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই তা আগের চেহারায় ফিরে যায়। গতকাল এ সড়কে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এর উপর দিয়ে চলাচল করাই কঠিন। ইট, পাথর, সুড়কি, বিটুমিন, পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো গর্ত বৃষ্টি হলে ডোবায় পরিণত হয়। জানা গেছে, গোড়াই-সখীপুর ২৮ কিলোমিটার রাস্তা টাঙ্গাইল জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিনে। গত চার দশক ধরে রাস্তাটির করুণ হাল। এছাড়া সখীপুর-সাগরদীঘি-মধুপুর ৪৪ কি.মি. রাস্তারও একই অবস্থা। গোড়াই-সখীপুর-মধুপুর সড়কে অজস্র বড় বড় গতের্র সৃষ্টি হয়েছে। এ রাস্তা দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলমগীর হোসেন, বাঁশতৈল খলিলুর রহমান কলেজের প্রভাষক লুত্ফর রহমান ও হাফিজ উদ্দিন বলেন, এ রুটে গাড়িতে উঠলেই বুক ধড়ফড় শুরু করে। জানা গেছে, ৭০ দশকে পাহাড়ী এলাকাবাসীর যোগাযোগের কথা মাথায় রেখে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে মির্জাপুর-গোড়াই-সখীপুর ও সাগরদীঘি পর্যন্ত ৭০ কি.মি. সড়ক নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু গত চার দশক ধরে রাস্তাটির এমনই করুণ দশা যে, যানবাহন চলাচলতো দূরের কথা, পায়ে হাঁটাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এক বছর আগে রাস্তাটি প্রশস্ত ও উন্নয়নের জন্য খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করে অসমাপ্ত ফেলে রাখা হয়েছে। রাস্তায় যানবাহন উঠলেই ধুলোবালিতে একাকার। এলাকাবাসী জানায়, ২০১১ সালের মার্চ মাসে একনেকে রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও বাসাইল-সখীপুর আসনের সংসদ সদস্য এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও রশি টানাটানির ফলে তা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সওজ) মো. মামুনুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ মন্ত্রী আসবেন বলে রাস্তাটি মোটামুটি মেরামত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজ হচ্ছে না।’