সুন্দরবনে র্যাবের অভিযান

বনদস্যু প্রধান জাকির নিহত বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২২
সুন্দরবনের ত্রাস, বনদস্যু জাকির বাহিনীর প্রধান জাকির হোসেন (২৮) র্যাবের গুলিতে নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর সংলগ্ন ভেদাখালী এলাকায় র্যাব-বনদস্যু ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় বেশ কিছু অস্ত্র, গুলি ও মালামাল। র্যাব-৮ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। র্যাব-৮-এর মিডিয়া বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল র্যাবের উপ-অধিনায়ক মেজর সাব্বির রহমান ওসমানীর নেতৃত্বে গতকাল সকাল সোয়া ১০টার দিকে র্যাবের ২০ জন সদস্য দুটি দলে বিভক্ত হয়ে দুবলার চর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ভেদাখালী এলাকায় অভিযান শুরু করে। দস্যুদের অবস্থান শনাক্ত করে র্যাব সদস্যরা দুই দিক থেকে ভেদাখালী খালে প্রবেশ করতে থাকেন। এ সময় বনের ভেতর থেকে র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে দস্যুরা। র্যাবও ওই এলাকা ঘিরে ফেলে এবং পাল্টা গুলি চালায়। আধা ঘণ্টা ‘বন্দুকযুদ্ধ’-এর একপর্যায়ে দস্যুরা বনের মধ্যে পালিয়ে যায়। গোলাগুলি শেষে ঘটনাস্থল থেকে এক বনদস্যুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি থ্রি নট থ্রি রাইফেল, ৪টি ওয়ান শুটার, ২০টি তাজা গুলি, ১৩টি গুলির খোসা, গুলি রাখার ১টি ব্যাগ, ১টি চায়নিজ কুড়াল, ১টি বাইনোকুলার, ১টি ওয়াকিটকি ছাড়াও বেশকিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়। ‘বন্দুকযুদ্ধ’ শেষ হলে ভেদাখালী এলাকায় জেলেরা ছুটে আসেন। তারাই লাশ দেখে জাকির বাহিনীর প্রধান জাকির হোসেন বলে শনাক্ত করেন। বরিশাল র্যাব-৮-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদ আহমেদ জানান, জাকির বাহিনী সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে জেলে-বাওয়ালীদের কাছে মূর্তমান আতঙ্ক ছিল। সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করতে র্যাব-৮-এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহত বনদস্যুর লাশ, অস্ত্রশস্ত্র ও মালামাল শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করবে র্যাব। উল্লেখ্য, গত ১৮ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন সাবসেক্টর কমান্ডার ও দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহমেদ বনদস্যু মর্তুজা বাহিনীর গুলিতে আহত হন। এ ঘটনার পর ওই দিন থেকেই সুন্দরবনের দুবলার চর, ভেদাখালী, চরাপুটিয়া, কটকা ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় বরিশাল র্যাব-৮-এর বিশেষ অভিযান শুরু হয়।