বাহরাইনে আগুনে পুড়ে নিহত ১৩ বাংলাদেশি শ্রমিকের লাশ দেশে পৌঁছেছে। এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-৮৩৮ বিমানে করে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লাশগুলো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে সাড়ে সাতটার দিকে তাদের লাশ একে একে বের করে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়। এ সময় লাশ নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। রাতেই লাশগুলো আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের এ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের স্ব স্ব গ্রামে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
বাহরাইনের রাজধানী মুখারকা এলাকায় ১১ জানুয়ারি আগুনে পুড়ে ওই বাংলাদেশিরা নিহত হন। বিমানবন্দরে প্রত্যেক পরিবারকে লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। লাশ দাফনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি পরিবারকে বিমানবন্দরেই ৩৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। পরে প্রতি পরিবারকে আরো দুই লাখ টাকা করে দেয়া হবে। এজন্য প্রত্যেককে ওয়ারিশান সনদ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া নিহত ব্যক্তিরা যেসব কোম্পানিতে চাকরি করতেন সেখান থেকেও ক্ষতিপূরণ আদায়ে দূতাবাস কাজ করছে।
যারা নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে তিনজন চট্টগ্রামের। তারা হলেন- চট্টগ্রামের বোয়াখালীর চরখিজিপুর এলাকার ছগির আহমেদের ছেলে নাজির আহমেদ, পটিয়ার পাথুয়া গ্রামের রশিদ আহমেদের ছেলে মাহবুব আলম ও মারিয়াপাড়ার আবদুল আজিজের ছেলে মোহাম্মদ জামাল। পাঁঁচজনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায়। তারা হলেন, ওয়ালী গ্রামের আবু নাছের মিয়ার ছেলে জসিম, কাইতলার শহীদ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজন ও স্বপন, গুড়িগ্রামের আবুল বাশারের ছেলে আনোয়ার হোসেন ও ভৈরবনগরের চাঁদ মিয়ার ছেলে জারু মিয়া। নিহতদের মধ্যে তিনজন চাঁদপুরের। তারা হলেন- কচুয়ার নওয়াপাড়ার শাহ আলমের দুই ছেলে শাহাদাত হোসেন ও টিটু আহমেদ এবং মতলবের আবদুস সাত্তার খানের ছেলে শাহিন খান। বাকি দু’জন হলেন- নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির কাশীপুর এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে ওসমান গনি এবং কুমিল্লার সদর দক্ষিণের জয়নাল আবেদিনের ছেলে মফিজুল ইসলাম।
প্রত্যেক পরিবারকে লাশ বুঝিয়ে দেয়ার সময় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব জাফর আহমেদ খান, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক শামসুন্নাহার ও পরিচালক (কল্যাণ) মোহসিন চৌধুরী বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
