বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসিতে বিএনপি শোকাহত :হানিফ

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩০
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, যুদ্ধাপরাধী বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশে বিএনপি শোকাহত। এ কারণে এখনো পর্যন্ত তারা কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তাদের এ নীরবতা দুরভিসন্ধিমূলক ষড়যন্ত্র কিনা তাতে দেশবাসীর সন্দেহ রয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না বলেই এ বিচার বানচাল করতে বহু রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়েছিল। প্রকাশ্যে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটককৃতদের মুক্তিও চেয়েছিলেন।গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গত সোমবার আওয়ামী লীগের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রথম সভার প্রস্তাব ও গৃহীত সিদ্ধান্ত জানাতে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ’ মর্মে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, এটা মিথ্যা কথা। তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ম প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে আবারো এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না। হানিফ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সাধারণ মানুষের দাবি। এটা আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রতিশ্রুতি দেয়ায় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে গণজোয়ার এসেছিল। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় দেয়ায় বিএনপির আস্থাভাজন ব্যক্তিরা ফেঁসে যাচ্ছেন। তাই তাদের অন্তরে বড় ব্যথা। সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যে আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এই বিশ্বজনীন নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রথম রায় সুসভ্য জাতি হিসেবে বাংলাদেশের হূত গৌরব পুনরুদ্ধার করবে। বাঙালি জাতির কলঙ্কমোচন হবে। মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বানচাল এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিএনপি-জামায়াত চক্রের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। এই অশুভ চক্রান্তের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শক্তি, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, সংস্কৃতিসেবী, শ্রমিক, কৃষক, নারী সমাজ, ছাত্র-যুবকসহ সর্বস্তরের জনগণ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে এক হয়ে জাতীয় জাগরণ সৃষ্টির জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, বাচ্চু রাজাকার পালিয়ে থাকলেও তাকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি নুরেমবাগ ট্রাইব্যুনালের উদাহরণ দিয়ে বলেন, নুরেমবাগ ট্রাইব্যুনাল প্রথম যে ২২ জনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল তারা সবাই পলাতক ছিল। ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের সফলতা ম্লান হচ্ছে কিনা সাংবাদিকদের অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগ অঙ্গ কিংবা সহযোগী সংগঠন নয়। ভ্রাতিপ্রতিম সংগঠন হলো ছাত্রলীগ। অপরাধের সঙ্গে ছাত্রলীগসহ যেই জড়িত থাকছে তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর কমিটির নতুন কমিটি ঘোষণা প্রসঙ্গে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, সোমবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৬ মাস পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের আগের কমিটিই বহাল থাকবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে সারাদেশের জেলা, মহানগর ও উপজেলাসহ সকল পর্যায়ের সম্মেলন শেষ করতে সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় সাংবাদিক সম্মেলনে। ৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে গণশোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।