আজ বৃহস্পতিবার খুলনা আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে গোটা খুলনা নগরীকে।
সর্বত্র সাজ সাজ রব পড়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও দেয়ালে দেয়ালে সাঁটানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত পোস্টার। বিতরণ করা হচ্ছে লিফলেট। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে বর্ণিল আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। সড়কগুলোতে চলছে তোরণ নির্মাণের কাজ। ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানের জনসভাকে সফল করতে ইতিমধ্যে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ, আওয়ামী লীগের সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় সভা করেছেন। এছাড়া ব্যস্ত সময় গত কদিন কাটিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক শেখ হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক এসএম মোস্তফা রশিদী সুজাসহ মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
প্রধানমন্ত্রী সর্বশেষ ২০১১ সালের ৫ মার্চ খুলনায় এসেছিলেন। ওই দিন তিনি নগরীর খালিশপুর পিপলস জুট মিল ময়দানে এক বিশাল জনসভায় বন্ধ ঘোষিত পিপলস জুট মিল্স, দৌলতপুর জুট মিল চালু, আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রদান, ড্রেজিংসহ মংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, খালিশপুর হাজী মুহসিন ও রূপসা বঙ্গবন্ধু কলেজ এবং নগরীর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ইকবাল নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও দৌলতপুর মুহসিন স্কুল সরকারিকরণ, আইটি ভিলেজ স্থাপন, খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণ, খুলনা রেল স্টেশনের আধুনিকায়ন এবং টেলিভিশন সম্প্রচার কেন্দ চালুসহ খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতিমধ্যে নগরীর পিপলস জুট মিল ‘খালিশপুর জুট মিল’ নামে চালু করা হয়েছে। দৌলতপুর জুট মিল পরীক্ষামূলকভাবে উত্পাদন করছে। আগামী ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ মিলটির উদ্বোধন করবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সামনে রেখে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে খুলনার উন্নয়নে নানা দাবি উত্থাপিত হচ্ছে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে-খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি ও দৌলতপুর জুট মিলসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কলকারখানা চালু, টেক্সটাইল পল্লী বাস্তবায়ন, খানজাহান আলী বিমান বন্দরের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ, পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ, আধুনিক রেল স্টেশন স্থাপন, মাওয়ায় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রভৃতি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে খুলনাঞ্চলের উন্নয়নে ১৪ দফা দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি।
