বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে (সোনারগাঁও যাদুঘর) কারুপল্লীতে প্রায় ১৪ বছর ধরে দোকান নিয়ে ব্যবসা করা ২১ স্টল মালিককে নতুন পল্লীতে দোকান বরাদ্দ না দেয়ার প্রস্তাবের কারণে তারা মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে। তাদের অভিযোগ, নতুন কারুপল্লীতে দোকান বরাদ্দ নিয়ে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ চরম অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে। নতুন করে ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতাদেরকে দোকান বরাদ্দ দেয়া হলেও প্রকৃত কারুশিল্পীদের উপেক্ষা করা হচ্ছে।
বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগ করেন। এর আগে তারা একই অভিযোগে ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কারুপল্লীর পুরাতন স্টল মালিক শাহজাহান। সম্মেলনে তারা বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের বর্তমান পরিচালক রবীন্দ্র গোপের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এনে বলেন, ৩৫ জন দরিদ্র কারুশিল্পী ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের কারুপল্লীতে নিয়মানুযায়ী স্টল বরাদ্দ নিয়ে কারুপণ্যের ব্যবসা শুরু করে। বর্তমানে কারুপল্লী একটি ব্যবসায় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এ দীর্ঘ সময়ে তারা নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও স্টলের ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ করে গেছেন।
বিগত ২০১০ সালে পাকা কারুপল্লী নির্মাণের জন্য তাদের কারুগ্রামে স্থানান্তর করা হয়। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং সেখানে ৩৪ স্টলের বদলে আরও ১৩টি স্টল বৃদ্ধি করে ৪৮টি স্টল নির্মাণ করা হয়েছে। পুরাতন ৩৫ জনকে পুনঃস্থানান্তরের সকল প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চলছিল এবং ৭ আগস্ট ২০১২ সালে তাদের নবনির্মিত কারুপল্লীতে স্থানান্তরের আদেশ দেয়া হয়েছিল। এ অবস্থায় ৩ দিনের মাথায় কর্তৃপক্ষ স্থানান্তরাদেশ স্থগিত করেন। পরবর্তীতে এ বছরের ১৭ জানুয়ারি নোটিসের মাধ্যমে তাদের ৩৫ জন কারুশিল্পীর মধ্যে মাত্র ১৪ জনকে কারুপল্লীতে স্থানান্তর আদেশ দেয়া হয় এবং বাকি ২১ জনকে বঞ্চিত করা হয়।
