জিএসপির পক্ষে তত্পরতা অব্যাহত

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৪০
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গার্মেন্টস পণ্যের জন্য জিএসপি সুবিধা বহালের লক্ষ্যে তত্পরতা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট দলের দুইজন প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্যের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করা হলে তার সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে কংগ্রেস সদস্যদ্বয়কে অবহিত করেন এবং এ বিষয়ে তাদের হস্তক্ষেপ ও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এ দুইটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান স্কট টিপটন এবং ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেট কংগ্রেস সদস্য জেমস পি মোরান আগামী ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এ সময় তারা কয়েকটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করবেন। রাষ্ট্রদূত দুই প্রতিনিধিকে জানান, যদিও বাংলাদেশের প্রধান রফতানিদ্রব্য তৈরি পোশাক আলোচ্য জিএসপি সুবিধার আওতাভুক্ত নয়, তা সত্ত্বেও বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধাভোগকারী দেশের তালিকা থেকে অপসারণ করা হলে দেশটি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হবে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশ এবং জাপান তাদের নিজস্ব জিএসপি স্কিমের আওতায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে শুল্ক সুবিধা দিয়ে আসছে। এ সকল রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করলে দেশটির রফতানি বাণিজ্য বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তিনি উল্লে¬খ করেন, ‘আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার এন্ড কংগ্রেস অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গানাইজেশনের (এএফএলসিআইও) আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোন কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হলে এই শিল্পে জড়িত লাখ লাখ নারী শ্রমিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি আশুলিয়ায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকার ও তৈরি পোশাক শিল্প কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থাসমূহ সম্পর্কে কংগ্রেস সদস্যগণকে অবহিত করেন। এছাড়া শ্রমিকদের কল্যাণে সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে শ্রম অধিকার বিষয়ে বাংলাদেশের মান বিচারের ক্ষেত্রে দেশটির আর্থ-সামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রাখার জন্যও তিনি অনুরোধ করেন। উভয় কংগ্রেস সদস্যই বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য গভীর মনোযোগের সাথে শোনেন এবং বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। কংগ্রেস সদস্যগণ ঢাকা সফরের প্রাক্কালে জিএসপি বিষয়ে রাষ্ট্রদূত প্রদত্ত তথ্যসমূহ তাদের সফরের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী হবে বলে মন্তব্য করেন। সফরকালে তারা বিষয়টির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানান। মিশন উপ-প্রধান মুহাম্মদ আবদুল মুহিত ও কাউন্সিলর এম জে এইচ জাবেদ রাষ্ট্রদূতের সাথে ছিলেন।