যুদ্ধাপরাধীদের সহায়তাকারী বিএনপি জামায়াতকে না বলুন

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩০
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত এবং তাদের সহায়তাকারী বিএনপি-জামায়াতকে না বলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ সারাদেশে এক ঘণ্টার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। বেলা সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত লাখো মানুষকে সম্পৃক্ত করে মানববন্ধনের মাধ্যমে দেশজুড়ে মানব প্রাচীর গড়ে তোলা হয়। মানব প্রাচীর কর্মসূচির সর্বত্রই সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। যুদ্ধাপরাধীদের সহায়তাকারী বিএনপি-জামায়াতকে না বলতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেয়া ১৪ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোন দলের নয়, এটা জাতীয় এজেন্ডা। কর্মসূচিতে অংশ নেয়া ১৪ দলের নেতাদের মুখে ছিল এক ঘোষণা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের স্টেডিয়ামের পাশের রাস্তায় মানব প্রাচীরে অংশ নিয়ে ১৪ দলের পক্ষে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করতে আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৪ দলের উদ্যোগে সারাদেশে গণসংযোগ ও জনসভা কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া ১৫ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একযোগে গণপদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগরীর মানববন্ধনের রুট ছিল গাবতলী থেকে শ্যামলী, আসাদ গেইট, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর, রাসেল স্কয়ার, গ্রীন রোড, পান্থপথ, বসুন্ধরা, সোনারগাঁও হোটেল, শাহবাগ, মত্স্য ভবন, প্রেসক্লাব, পল্টন মোড়, নূর হোসেন স্কয়ার, বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, গুলিস্তান পার্ক, ইত্তেফাক, রাজধানী মার্কেট, সায়েদাবাদ হয়ে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা মোড় পর্যন্ত। গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত এই দীর্ঘ পথের ১২টি স্থানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি শেষে গোলাম আযম-নিজামী-মুজাহিদ-সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। খুলনায় রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকার কারণে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জ ও নড়াইল জেলা এই কর্মসূচির আওতামুক্ত ছিল। বঙ্গবন্ধু স্কয়ার-পার্কের মধ্যদিয়ে ইত্তেফাক মোড় এখানে ১৪ দলের সিনিয়র নেতারা নেতৃত্ব দেন। এ এলাকায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম, এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, গণতন্ত্রী পার্টির নূরুর রহমান সেলিম প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে মতিয়া চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছে। কারো অঙ্গুলী নির্দেশে কিংবা কারো ইশারায় এ বিচারের রায় হয়নি। ক্যাঙ্গারু কোর্ট কিংবা সামরিক আদালতের মাধ্যমে এ বিচার হচ্ছে না। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া শোকে পাথর হয়ে গেছেন। তার কথা বলার ভাষা নেই। ‘রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জনগণ মেনে নেবে না’ বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের এমন বক্তব্যের জবাবে রাশেদ খান মেনন বলেন, মুক্তিযুদ্ধও ছিল রাজনীতি। জনগণের অধিকার আদায়, শোষণ থেকে মুক্তি পেতে বাংলার মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে নয় মাস যুদ্ধ করেছে। এ বিচারও কোন দলের নয়, জনগণের রাজনৈতিক এজেন্ডা। যারা এটাকে দলের রাজনীতি বলছে তাদের এদেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। যুদ্ধাপরাধীদের প্রথম রায় নিয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না জানানোর নিন্দা জানিয়ে ডা. দীপু মনি বলেন, বিএনপি প্রতিক্রিয়া জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। তারা বলছে, আলাপ-আলোচনা করে জানাবে। আসলে জনগণের অধিকার নিয়ে কথা না বলার কারণে তারা কথা বলার অধিকার হারিয়ে ফেলেছে। দিলীপ বড়ুয়া বলেন, দেশি ও আন্তর্জাতিক কোন চাপের কাছে মাথা নত করবে না মহাজোট সরকার। সকল চাপ মোকাবেল করে বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। প্রেসক্লাব-পল্টন মোড় এ এলাকায় নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এডভোকেট রহমত আলী এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক অসিত বরুণ রায়, সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমুখ। শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, কিছু বিদেশি মিডিয়ায় বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় নিয়ে যে বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করছে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হবে। সরকার আন্তর্জাতিক মিডিয়ার অপতত্পরতাও খতিয়ে দেখবে। বরিশালে মানববন্ধন বরিশাল অফিস একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করার দাবিতে এবং বিএনপি-জামায়াতের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার এক ঘণ্টার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ১৪ দল। বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মানববন্ধন চলাকালে বক্তৃতা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আফজালুল করিমসহ ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ।